সিরিজ হোক কিংবা মুভি, ডায়লগ না থাকলে যেন সিরিজটাই জমেনা

হলে গিয়ে বাংলা সিনেমা দেখতে বললে আমরা “বাংলাদেশে কি ভালো সিনেমা হয়?” এমন দোহাই দিই। আর যখন ভালো সিনেমা/সিরিজ রিলিজ হয় বাংলাদেশে, তখন আমরা হলে না গিয়ে ডাউনলোড লিংক খুজি। আমরা হলাম অনেকটা হলিউডি হাইব্রিড বাঙালি।

সত্যি বলতে এই তাকদির সিরিজটা রিলিজ হওয়ার পর থেকে অবস্থাটা এমনই দেখলাম।চারদিকে সিরিজটার হাইপের মাত্রা দেখে আর তর সইলোনা।আমিও দেখতে শুরু করলাম।
So আজকের রিভিউটা এই সিরিজটা নিয়েই। বাংলাদেশী সিরিজ বলে দেশপ্রেম মাখিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ না হয়ে একদম Honest রিভিউ দেওয়ার চেষ্টা করবো।

(উপরের লিখাটা সিরিজটা না দেখার আগে।পুরো সিরিজটা দেখার পর নিচের বাকী লিখাটা শুরু করব…..) দেখা শেষ। Over Expectations নিয়ে বসিনি।যা ডাটা খরচ হইছে,মোটামুটি উসুল হইছে বলতে পারি।

📌গল্পঃ গল্পটা খুব সিম্পল।কিন্তু গল্পের ভিতরকার ক্রিয়েটিভ কাজগুলো ছিলো গর্জিয়াস।একেবারে সিম্পলের ভিতর গর্জিয়াস ব্যাপারটার মতন।

❌#স্পয়লার এ্যালার্ট❌

গল্পটা শুরু হয় এক লাশ পরিবাহী “তাকদির” নামের লোককে দিয়ে,যার ক্যারেক্টার প্লে করেছে চঞ্চল চৌধুরী। আর তার ছোট ভাই “মন্টু”(বাস্তবের নামটা জানা নেই)। একদিন তাকদির নামক লোকটা তার গাড়ীর ভেতর এক অচেনা মেয়ের লাশ খুঁজে পায়।কার লাশ,কে এই মেয়ে? সবটাই রহস্য।তারউপর Rape Case জড়িত এর সাথে।পুরাই সেন্সিটিভ ব্যাপার। পুলিশ,রাজনীতিবিদ সবার চাপ আসতে থাকে তার উপর।

এভাবেই তৈরি হয় নতুন নতুন সব সমস্যা।মানে একটা ঝামেলা আরেকটা নতুন ঝামেলার সৃষ্টি করে।অনেকটা ডার্ক সিরিজের ক্যারেক্টারগুলা অতীতে গিয়ে নতুন নতুন সমস্যা তৈরী করার মতন।তো হ্যাঁ! এভাবেই সিরিজটার থ্রিলটাও বাড়তে থাকে।

📌অভিনয়ঃ অভিনয়ে চঞ্চল চৌধুরীর মুন্সিয়ানাকে নিয়ে যতটা বেশি বলব, ততটাই কম মনে হবে। বিশেষ করে চঞ্চলের মুখের এক্সপ্রেসনগুলা সিরিজটার টান টান উত্তেজনা ধরে রেখেছে।

আর ” মন্টু” নামের নতুন একটা ছেলে দেখলাম।এই ছেলেটার Acting Level মুগ্ধ করেছে আরো বেশি।সামনে চান্স পেলে এই সিরিজটার মত অভিনয়ে আরো দারুন ছক্কা মারবে নিশ্চিতভাবে বলতে।আর বাকী সবার অভিনয় মোটামুটি ভালোই লেগেছে।

📌সিনেমাফটোগ্রাফিঃ এই সিরিজটার একটা জিনিস একটু বোরিং লেগেছে আমার কাছে। সিম্পল গল্পটাকে টেনে লম্বা করা।কিন্তু যেটা বোরিং করেনি,সেটা হলো এই সিরিজটার সিনেমাটোগ্রাফি। সন্ধার আলো আধারী কালারিং, কাশঁফুলের বনের ভিতর দৌড়ানোর সিনটা ড্রোন ক্যামেরায় দেখানো,ক্যামেরা এংগেলগুলা খুব সুক্ষ্ম জায়গা থেকে দেখানো ইত্যাদি বিষয়গুলোতে পরিচালক খুব দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।

ব্যাপক পরিশ্রম হয়েছে এই সিনেমাফটোগ্রাফির কাজগুলোতে

📌ডায়লগঃ সিরিজ হোক কিংবা মুভি, ডায়লগে দু তিন চামচ ফিলোসোফি না থাকলে যেন সিরিজটাই জমেনা।সবকিছু অপরিপূর্ণ থেকে যায়।এই সিরিজটার ডায়লগে সেটাও পাবেন। তবে সবচেয়ে ভালো লাগা ডায়লগ গুলা ছিলো

“আমার মা শরীর বিক্রি কইরা আমারে মাদ্রাসায় পড়াইছে।আমার মা মরনের পর আপনাদের ভালো দুনিয়ায় আইলাম।এসে দেখি ঔ দুনিয়ায় খালি শরীরটাই বিক্রি হতো আর আপনাদের ভালো দুনিয়ায় শরীরের সাথে সাথে আত্মাটাও বিক্রি হয়”

“এই দুনিয়ায় মানুষ না মরলে কেউ কাউরে ভালো মানুষ কয়না” সবমিলিয়ে ওয়েব সিরিজটাকে আমি 7.5 দিতে পারি।সিরিজটাতে কোনো এডাল্ট সিন ছিলো না।না ছিলো খুব বেশি গালাগালি।ব্যাপারটা ভালই লেগেছে।
সময় বের করে দেখে নিতে পারেন সিরিজটা।আমার মতন হতাশ হবেন না আশা করি 💛

Leave a Reply