সিনেমা টি বক্স অফিসে সুপারহিট হিসাবে ঘোষণা করা হয়

এত সুন্দর মুভি, এত সুন্দর প্লট, এত সুন্দর সবার অভিনয়, একেবারে অন্যরকম একটা মুভি তারপরও গ্রুপে সহ অন্যান্য জায়গায় নেই কোন আলোচনা। একেবারে আন্ডাররেটেড মুভি একবারে আন্ডাররেটেড।

৯/১১ নাইন ইলেভেন এর ভয়াবহ ঘটনার পর আমেরিকায় অবস্হানরত মুসলমানদের দুর্বিষহ জীবন তুলে ধরা হয়েছে এই মুভিতে। তবে এই মুভির সবচেয়ে অসাধারণ দিক হলো এই মুভি আপনাকে কিছু একটা জানাতে চায়।

এই মুভির রিভিউ দেওয়ার আগে আপনাকে ৯/১১ সম্পর্কে কিছু বলে দেই। ৯/১১ কী? কোথায় এই ঘটনা সংঘটিত হয়? কেনই বা সংঘটিত হয়েছিল বা কী কারণে? এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে অনেক কিছু লিখতে হবে, লিখতে হবে কন্ট্রোভার্সি কথাবার্তা।

স্পয়লার আছে

যদি পারেন গুগল করে দেখে নিয়েন। রিভিউতে ঐসব কথা লেখা যাবে না। ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা যা নাইন/ইলেভেন নামেও পরিচিত। ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর চারটি সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলা।

এই হামলায় ২,৯৯৭ জন নিহত এবং ৬,০০০ এর অধিক মানুষ আহত হয়। ৯/১১ নাইন ইলেভেন এর ভয়াবহ ঘটনার পর আমেরিকায় অবস্হানরত মুসলমানদের দুর্বিষহ জীবন নিয়ে নির্মিত হয় এই মুভিটা।

প্লটঃ- ওমর একজন দিল্লী থেকে আগত ভারতীয় ছাত্র। স্কলারশিপ পেয়ে পড়তে আসে নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে দেখা হয় তার সাথে চমৎকার দুজন বন্ধুর সাথে। মায়া এবং স্যাম এর সাথে বন্ধুত্ব তার জীবনে এক নতুন বসন্তের মতো আসে।

কিন্তু একদিন সে জানতে পারে যে মায়া এবং স্যাম একে অপরকে ভালবাসে। এরপর ওমর চলে যায় তাদের জীবন থেকে। দীর্ঘ ৭ বৎসর পর আবার তাদের জীবন একে অপরের সাথে জড়িয়ে যায়। এর ভিতরে ঘটে গেছে বহু ঘটনা। যার কল্পনা কেউ করতে পারেনি। কী ঘটেছে তা দেখতে হলে মুভিটা না দেখা ছাড়া বুঝার কোন উপায় নেই।

ধীরে ধীরে ওমর মায়া’কে ভালবাসতে শুরু করে

এটি মুভিটা অসম্ভব ভালো লাগার একটা মুভি। সিনেমা টি বক্স অফিসে সুপারহিট হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এই মুভিতে অভিনয়ের জন্য ক্যাটরিনা কাইফ এবং নিতিন মুখেশ ৫৫ তম ফিল্মফেয়ার পুরষ্কারে সেরা অভিনেত্রী এবং সেরা পার্শ্ব অভিনেতার জন্য মনোনীত হয়। অভিনয়ের দিক থেকে জন আব্রাহাম এবং ক্যাটরিনা কাইফ এর পারফরম্যান্স ছিল সত্যি চমৎকার।

নেইল নিতিন মুখেশ এর অভিনয় আরেকটু ভাল হতে পারত বা ভাল হওয়া উচিত ছিল। নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী ও লিজেন্ড ইরফান খান যতটুকু স্ক্রিনে টাইম পেয়েছে একেবারে ফাটিয়ে দিয়েছে। পরিচালনার জন্য পরিচালক কবির খান নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

  • Movie Name : New York(2009)
  • Imdb Rating : 6.8/10
  • Personal Rating : 8/10

এই মুভির রান টাইম ৩ ঘন্টা ১৬ মিনিট। শুধুমাত্র একবার দেখতে বসে যান আশাকরি বোরিং হবেন না। অলটাইম ফেভারিট একটা মুভি।
স্পয়লার বিহীন

  1. Movie Name : Veer-Zaara(2004)
  2. Imdb Rating : 7.8/10
  3. Director : Yash Chopra
  4. Starring : Shah Rukh Khan, Priti Zintha, Rani Mukerjee Etc.
  5. 91% Rotten tomatoes and 93% goggle users like this film.

এটি ২০০৪ সালের জনপ্রিয় রোমান্টিক বলিউড মুভি। এই মুভিতে প্রধান তিনটি চরিত্র ছাড়াও অভিনয় করেছেন কিরণ খের, দিভ্যা দত্ত ও অনুপম খের এবং অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন অমিতাভ বচ্চন ও হেমা মালিনী, বোমান ইরানী, মনোজ বাজপেয়ী।

একদিকে যেমন এই ছবিতে রয়েছে ভারত-পাকিস্তান মৈত্রীর প্রসঙ্গ, তেমনই যশ চোপড়ার সিগনেচার স্টাইল, বলিউডি চিরন্তন প্রেমের গল্প বলে এই ছবি। এই ছবিতে তিনটি মুখ্য চরিত্র।

একটি হল রানি মুখোপাধ্যায়-অভিনীত সামিয়া সিদ্দিকী

এই চরিত্রটি একটি বাস্তব চরিত্র দ্বারা অনুপ্রাণিত। তিনি হলেন পাকিস্তানের মানবাধিকার সৈনিক এবং বিখ্যাত আইনজীবী আসমা জাহাঙ্গির। এই ছবিতে প্রীতি জিন্তার কাস্টিংও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার আগে প্রীতিকে বেশ পাশ্চাত্য মেজাজের ও সমসাময়িক চরিত্রের লুকে দেখা যেত।

‘বীর-জারা’-তে সেই স্টোরিটাইপটা ভাঙতে চেয়েছিলেন যশ চোপড়া এবং সেই এক্সপেরিমেন্ট কতটা সফল হয়েছিল তা বলিউড দর্শকের অজানা নয়।
মুভির স্টোরি, ডিরেকশন, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, সিনেমাটোগ্রাফি নজর কাড়া।

বিশেষ করে মিউজিক প্রত্যেকটা গান অলটাইম ফেভারিট। অভিনয় নিয়ে বলতে গেলে শাহরুখ খান, প্রীতি জিনতা, রানী মুখার্জি অসাধারন অভিনয় করেছে। পরে হয়তো আফসোস করবেন আরেকটু রানটাইম হলে ভাল হতো।

আমির খান এই মুভিতে মা-বাবা হারা এতিম টাপুরি চরিত্রে অভিনয় করেন। জানা গেছে এই মুভিতে তিনি নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য টাপুরিদের কালচার,চালচলন নিয়ে গবেষনা করেন।মুভিতে আমিরের বিপরিতে অভিনয় করেন উর্মিলা।

মুন্না(আমির) ও মিলি(উর্মিলা) অনেক কাছের দুই বন্ধু।মিলি ফ্যামিলির সাথে ও মুন্নার সম্পর্ক আন্তরিক। মুন্না মিলিকে অনেক পছন্দ করে কিন্তু মিলিকে সামনা সামনি বলতে পারে না। এই মুভিতে উর্মিলার চরিত্র হলো তিনি ফিল্মের ব্যাক গ্রাউন্ড ড্যান্সার।তার স্বপ্ন একদিন সে ফিল্মের নায়কা হবে।

বাট শেষমেশ তা শাহরুখের কপালে জুটে

অবশেষে কমল (জ্যাকি শ্রফ) এর সাহায্যে তার সে স্বপ্ন পুরন হয়। এই মুভিতে জ্যাকি শ্রফ এর চরিত্র তিনি ফিল্মের নায়ক এবং মিলি তার বিরাট ফ্যান।
মুভিতে মিলি নায়কা হিসেবে তার প্রথম সিনেমায় তার পছন্দের নায়ক কমল(জ্যাকি) এর বিপরিতে অভিনয় করেন এবং অভিনয় এর খাতিরে তাদের সম্পর্ক গভির হতে থাকে।

এইদিকে মুন্না তাদের সবসময় একসাথে ঘুরতে দেখে অনেকটা হতাশ হন।মুন্না ভাবতে থাকে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক বিদ্যমান। দুইজনের মধ্যে থেকে তিনি সড়ে দাড়াবেন। তাই মুন্না হঠাত মিলির উদ্দেশ্যে মিলির ভাইয়ের হাতে একটি চিঠি দিয়ে শহর ছেড়ে পালিয়ে যান।

চিঠি মিলির হাতে পড়লে মিলি খুব কষ্ট পায় এবং কমলের সাহায্যে সে মুন্নাকে খুজা পায় এবং মিলি তার ভুল ভাংগায় যে সে আসলে তাকেই পছন্দ করতেন। সিনেমায় অভিনয় এর খাতিরে সে কমলের সাথে আন্তরিক।কমলের সাথে কেবল তার বন্ধুতের সম্পর্ক।

মুন্না তার ভুল বুঝতে পারে এবং মিলি, মুন্না একসাথে মিলিত হয়।এই দৃশের মাধ্যমেই মুভি শেষ হয়।  (বি.দ্র):লোকে মুখে শুনা যাচ্ছিলো এবং আমির খান নিজেও পুরা নিশ্চিত ছিলেন এই মুভিতে অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনেতা বিভাগে ফিল্ম ফেয়ার আওয়ার্ড জিতবেন। তাই তিনি হতাশ এবং ক্ষুব্ধ হয়ে ফিল্মফেয়ার আওয়ার্ড বয়কট করেন এবং এর পরের বছর থেকে আমির খান কে আর কখনই কোন আওয়ার্ড শো দেখা যায় নি।

Leave a Reply