যার রং তার ই সাজে অন্যে করলে জোকার বলে

(এডিট করলে এডমিন এপ্রুভাল নিতে হয় সেটা জানা ছিল না।আগে এমন হতনা। এডিট করার পর কমেন্ট আর লাইক অফ হয়ে গেছিল। তাই দ্বিতীয়বার দিলাম)
মাস একশন জনরা ও সাইন্সের সাথে এর বিরোধপূর্ণতা – এটা “সাউথ মুভি লাভারের” গ্রুপ না। শুধু “মুভি লাভার” এর গ্রুপ।

এই মুভির ট্রেলার বা চাপ্টার ১ নিয়েও বাজে মন্তব্যের লোকেদের অভাব পড়ছেনা। এর কারণ এখানে অনেকেই আছে মুভিকে অভিনয় দক্ষতা আর বাস্তবতা দিয়ে যাচাই করে, একশন বা মারপিট দিয়ে না।

তো কেজএফ হল মাস একশন জনরার ফিল। এর জনরা টাই মাস একশনের। এটা সাউথ ইন্ডিয়ার নিজস্ব জনরা। বিশেষ করে তামিল, তেলেগু ও কন্নড় এ। মালায়লা আর বলিউড মাস একশন জনরার মুভি বানাতে খুব এক টা সফল না।

মালায়লায় মুভি সাবলিল এক্টিং এর জন্য আর বলিউড অনেক টা মিক্সড ফিল্মের জন্য জনপ্রিয়। কিন্তু মাস একশন জনরাটা কি? এই জনরায় টিকতে হলে অর্থাৎ অভিনয় করতে হলে অথবা এ ধরনের অভিনয় সহ্য করতে হলে আপনাকে কিছু রিকোয়ারমেন্ট মনে রাখতে হবে।

এখানে সব জনরার মুভি দেখার মানুষ ই থাকবে

  1. এটা সুপারহিরো ফিল্ম না কিন্তু আপনাকে একসাথে অনেক গুন্ডার সাথে ফাইট করে জিততে হবে।
  2. প্রতিটা একশন কিছুটা স্লো মোতে শ্যুট হয় আর এখানে ফিজিক্স অনুসারে কোন মারপিট হবেনা। তবু আপনি ইঞ্জয় করবেন।
  3. আপনার swag থাকতে হবে। আর ডিরেক্টর কেও আপনাকে সেভাবে উপস্থাপনের ক্ষমতা থাকতে হবে।
  4. লাউড আর মাস বিজিএম থাকতে হবে।
  5. ডায়লগ মারত্বক লেভেলের হতে হবে আর মিনিংফুল থাকতে হবে।

যারা WAR আর RACE এর উদাহরণ টানছেন তাদের বুঝা উচিত দুটাই মাস একশন ফিল্ম এর কোন কাতারেই পড়েনা। দুটোই নর্থের মুভি। কন্নড় এর না যে লোকে ফিজিক্সের ম্যাথ মিলাতে হলে যাবে৷ আর ভাই একশনের সাথে ভাল কাহিনীও থাকতে হয় যা RACE 3 এর বাপ মার কাছে ছিলনা।

আর মাস একশনের অডিয়েন্স অনেক বেশি। অডিয়েন্স বেশি মানে টাকা বেশি। সুতরাং এধরনের মুভি হলিউড মুভির সাথে তুলনা করা ফিজিক্সে পিএইচডি করা ক্রিটিক্স দের মোটেও মাথায় রেখে বানানো হয়না। কারণ তাদের পরিমান নেহাত ই কম।

আমি নিজেও একশন, মাস একশন, থ্রিল, মিস্ট্রি, মার্ডার, সাইন্স ফিকশন ( স্পেস এন্ড টাইম) – শুধুমাত্র এই জনরাগুলার বাইরে মুভি কম ই দেখি। এই কারনেই এভেঞ্জার্স এন্ডগেম ৩০ বারের বেশি দেখছি,এভেঞ্জার্স এর পুরা ফোল্ডার আছে। ৯৯ জিবি নামাইছিলা। ডিরেক্টর নোলান এর প্রত্যেক টা মুভি ফোল্ডারে সেভ করা আছে। কেজিএফ ত ১৫ বারের বেশি দেখছি। ডার্ক আমার ফেভারেট সিরিজ।

কিন্তু দেশ বিদেশের অনেক ছবি আছে ভাল ভাল। আমি জানি। কিন্তু আমি সেগুলা হঠাৎ মন চাইলে দেখি। আসলে হানাহানক, কাটাকাটি,মারপিট, প্রচুর প্যাচানো, টাইম ট্রাভেল বা R rated মুভি গুলার দর্শক আমি।

R rated মুভি গুলার দর্শক আমি

তো আমি নিজে ত সাইন্সে পড়ি। কিন্তু যেই জনরা নিজেই নিজেকে সাইন্স বহির্ভুত ডিক্লেয়ার করছে তার দোষ খোজা নিজের কাছে হাস্যকর লাগে। আর এটা নতুন কন্সেপ্ট না। সাউথ ইন্ডিয়ান ফিল্মে বহুকাল এই স্ট্র‍্যাটেজি ফলো করে আসছে।

সুতরাং বৃথা ক্রিটিসাইজ এই ফিল্মের রেটিং বা ইনকামে কোন প্রভাব ফেলবেনা। আপনার ভাল লাগেনাই এই মতামত পেশ করার অধিকার আপনার আছে। কিন্তু যেই লজিক গুলা দিচ্ছেন সেগুলাও যেন মানানসই হয়। কারম বলিউড আর সাউথ ইন্ডাস্ট্রি এক জিনিস না।

সাউথ যেটা ৩০ বছর ধরে করে আসছে সেটা আমাদ্রর সাল্লু ভাইয়ে ৫-৬ বছরে করার ব্যর্থ চেষ্টা করছে। রজনিকান্তের সিগারেট খাওয়া, হাটা চলা,ডায়লগ ডেইভারি করা, ধানুষের এংরি লুক, মোছে তা দেয়া, চিকন শরিরেও সোয়াগ আনা কিংবা থালাপাথি বিজয় এর চশমা পড়া, চুইংগাম মুখে নেয়া, সোশাল প্রব্লেমে কথা বলা, থালাপতি ট্যাগ পাওয়া এগুলা সবি মাস একশন জনরার ক্লাসিক অংশ।

শাহরুখ, সালমান, আমির, হৃত্তিক – এদের কেউই এইগুলা করতে পারবেনা

  • ওয়েব সিরিজের নামঃ Byomkesh
  • জনরাঃ Crime, Mystery

📌📌এসে গেলো ব্যোমকেশের সিজন ০৬ ! হৈচৈ এর ব্যানারে ২০১৭ সাল থেকে শুরু হয়েছে ব্যোমকেশ ওয়েব সিরিজ ! ব্যোমকেশ সম্পর্কে কে না জানেন ! শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়’এর এক অসামান্য সৃষ্টি এই ব্যোমকেশ !

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়’এর মনে হয়েছিলো, বাঙ্গালী গোয়েন্দাগুলোকে দেশীয় মানুষেরা খুব একটা উঁচু চোখে দেখে না আর এসব ভেবেই তিনি অমর এই গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সী সৃষ্টি করেন ! এই ব্যোমকেশ, তিনি নিজেকে ঠিক ডিটেকটিভ বলতে পছন্দ করেন না, তিনি নিজেকে নিজেই আখ্যা দিয়েছেন সত্যান্বেষী হিসেবে ! এমন মানুষ হয়তো খুব কম-ই আছেন, যারা ব্যোমকেশ পড়েন নাই ! যাইহোক, সিজন ০৬ কেমন হলো সে বিষয়ে আসা যাক…

📌📌 সিজন ০৬ নির্মিত হয়েছে ব্যোমকেশ সিরিজের ২৫ তম গল্প মগ্ন মৈনাক’এর আঁধারে ! মগ্ন মৈনাকের কাহিনী টা এমন… একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদের বাড়িতে হেনা মল্লিক নামে এক পাকিস্তানী মেয়ে আসে যেই মেয়েটাকে ঐ রাজনীতিবিদ তাঁর বন্ধুর মেয়ে বলে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং মেয়েটাকে তাঁর নিজ বাড়িতে থাকতে দেয় !

হটাৎ একদিন মেয়েটা ছাদ থেকে পড়ে মারা যায় ! কোন এক সূত্রে এই কেসে ব্যোমকেশ জড়িয়ে পড়ে ! আপাত দৃষ্টিতে অসতর্কবশত পড়ে যাওয়া মনে হলেও যেহেতু ব্যোমকেশ হাজির তাই কিছু একটা রহস্য তো থাকবেই ! তো, ব্যোমকেশের সাথে এই রহস্যের জট ছাড়াতে চাইলে সিরিজটার সিজন ০৬ আপনাকে দেখতে হবে !

এবার আসি কাস্টিং সহ অন্যান্য ব্যাপারে

জানেনই এই ওয়েব সিরিজে ব্যোমকেশ হিসেবে অভিনয় করেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য ! সত্যি বলছি, এই লোকটা নিজেকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে গেছে, উনাকে দেখলেই মনে হয় কিছু একটা স্পেশাল কিছু করবেই !

উনাকে দেখলে এক কথায় ভরসা হয় যে না উনি উনার সর্বোচ্চ’টা দিয়ে অভিনয় করবেন-ই ! বরাবরের মত এবারেও তার ব্যতিক্রম হয় নি ! গল্পটা পরিচিত এবং মূল গল্পের সাথে সিনেমাটোগ্রাফি’র তেমন কোন পরিবরতন-ই নেই, তারপরেও দেখতে কোথাও কোন বিরক্তি আসে নাই !

সবার অভিনয় একদম পারফেক্ট ছিল ! মগ্ন মৈনাক গল্পটাকে তিন এপিসোডে ভাগ করা হয়েছে ! কালার গ্রেডিং, বিজিএম সবকিছু ভালো ছিল ! ওভারঅল সবকিছু একদম পারফেক্ট ছিল !

হৈচৈ’এ অলরেডি সিজন ০৬ প্রিমিয়ার হয়ে গেছে তো বললাম-ই ! একটু পরেই হয়তো পাইরেসি হয়ে যাবে বা এতক্ষণে হয়ে গেছে বিভিন্ন পপুলার সাইটে ! যাইহোক, যেভাবে সম্ভব হয় দেখে নিতে পারেন এই অসাধারণ সিরিজটা !
ধন্যবাদ সবাইকে !

SonyLiv যখন থেকে স্ট্রিমিং চালু করেছে, তখন থেকেই ভালো কিছু কনটেন্ট আমাদের উপহার দিয়ে আসছে। এর মধ্যে অন্যতম Scam 1992, পরে কয়েকদিন আগে দেখা Ram Singh Charlie, আর এখন Welcome Home। বছরের শেষদিকে মুক্তি পাওয়া এই হরর থ্রিলার বলিউডের অন্যান্য সব ধরনের এমন জনরা মুভি থেকে হাজারো গুণে এবং মানে উপভোগ্য ছিল।

আনুজা, মধ্যবিত্ত পরিবারের মাতৃহীন এক মেয়ে। যে বর্তমানে একটি স্কুলে নতুন চাকরিতে যোগদান করেছে। চাকরির কয়েকদিন পরই আদমশুমারির জন্য তাকে এবং তার এক কলিগকে জনগণনার জন্য একটি নির্দিষ্ট এলাকা কভার করতে পাঠানো হয়।

দেখার সময়ই বুঝতে পারবেন, এখানে গান যায়ও না

এরপর গ্রামের প্রায় সব পরিবারের জনগণনা হলেও, একটি পরিবার তখনো বাকি ছিল। তাদের ঠিকানা আশেপাশে ছিল না বিধায় আনুজার কলিগ বাদ দিতে বলে। কিন্তু, আদর্শবাদী আনুজা সব পরিবারকে কভার করেই ছাড়বে। এই সংকল্প নিয়ে তারা পরিবারের বাসাতে পৌঁছায়, যাদের বাড়ি গ্রাম থেকে কয়েক কিলো দূরে ছিল।

তাও একটা সুনসান এলাকায়, যেখানে চোখ যতদূর যায় ততদূর একটা বাড়িঘরও নেই। এমন ভূতিয়া জায়গায় থাকা পরিবারটাও বড়ই অদ্ভুত ছিল। তাদের সাথে কথা বলার সময় আনুজা খেয়াল করে, ঘরের বউয়ের শরীরে আঘাতে চিহ্ন।

এটা দেখে তার বোধ হয়, মেয়েটা হয়তো স্বামী দ্বারা নির্যাতিত। তাই, পরেরদিন আবারো নিজের ঐ কলিগকে নিয়ে ঐ বাসাতে যায়। মূলত, এই সিদ্ধান্তটাই তাদের দুজনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

মু্ভির কয়েকটি দুর্দান্ত দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এর পরিচালনা। নতুন পরিচালক হিসেবে Pushkar Mahabal নিজের দক্ষতা দারুণভাবে প্রদর্শন করেছেন। আরেকটি দিক ছিল, সবার অভিনয়। প্রতিটা ক্যারেক্টারে অভিনয় করা শিল্পীরা অসাধারণত্ব দেখিয়েছেন।

এছাড়া, সিনেমাটোগ্রাফিও বেশ সুন্দর ও গল্পের সাথে মানানসই লেগেছে। তাছাড়া সবচেয়ে ভালো উদ্যোগ হিসেবে মনে হয়েছে, মুভিতে কোনো গান বা অথবা পয়েন্টবিহীন দৃশ্য না রাখা।

অন্যদিকে বলিউডে একটা বদঅভ্যাস হলো যে, যতটা ন্যুডিটি যুক্ত করা। যেটাও এখানে পাবেন না (যদিও একটা রয়েছে, তবুও সেটা কাহিনীর সাথে রিলেটেড)।

এখন যদি দুর্বল দিকের কথা বলি, তাহলে সেটা হবে এর স্ক্রিনপ্লে। যা একটু স্লো ছিল, হয়তো মাঝে দিয়ে বোরিং লাগতে পারে। তবে, শুরু এবং শেষে গিয়ে এমন বোধ আর হবে না। বহুদিন পর বলিউড একটি ভালো থ্রিলিং একটা মুভি এসেছে, তা হলিউডের Texas Massacre এর স্বাদ দিবে। তাই, মুভি লাভার হয়ে থাকলে মিস করবেন না।

Leave a Reply