যারা অন্যায় করেছে তারাই বা কেন আরো অন্যায় করবে

এইতো কিছুদিন আগে “itheatre app” এ চ্যাপ্টার ১ এবং ২ সহ মুক্তি পেলো ২০২০ এর অনেক প্রত্যাশিত ফিল্ম “নবাব L.L.B”। করোনার এই মহামারীর মধ্যেও বাংলাদেশের মানুষদের নতুন চলচিত্র উপহার দেওয়ার জন্য অনলাইন প্লাটফর্মে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল ফিল্মটি। কতটুকুই বা মানুষের মন রক্ষা করতে পেরেছে ফিল্মটি? আমি আশাবাদী অনেক ভালোই হয়েছে।

এই ফিল্মের মূখ্য চরিত্রে ছিলেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া। যাকে ঘিরেই পুরো গল্পটি রচিত হয়েছিল। এবং আমার মনে হয় এই মেয়েটি তার ক্যারিয়ারের সেরা অভিনয় করেছেন এই ফিল্মে। কোনো ওভারএক্টিং ছিল না তার অভিনয়ে। একদম সাবলীলভাবে অভিনয় করেগিয়েছেন। যেনো মনে হচ্ছিল তিনি পুরোপুরি চরিত্রের মধ্যে চলে গিয়েছেন।

🚫স্পয়লার বিহীন🚫

একজন নির্যাতিত নারীর মানসিক অবস্থা কেমন হবে সেটা যথোপযুক্তভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছিলেন তিনি। শুভ্রা কি পাবে ন্যায়বিচার নাকি অন্যায়ের বেড়াজালে চিরকাল বন্দী হয়ে থাকতে হবে তাকে? কিন্তু হার মেনে নিয়ে চুপ করে বসে থাকার মেয়ে তো নয় শুভ্রা! তার সাথে হওয়া অন্যায়ের বিচার হতে হবে।

যে ভিকটিম তাকে নিয়ে এত কথা কেন? তাকে কেন মুখ লুকিয়ে বসে থাকতে হবে? সে কেন সমাজের সবার সামনে দাড়াতে পারবে না? সমাজের ছোট-বড়, সবাই কেন তার দিকেই আঙ্গুল তুলে কথা বলবে?

তারা কেন তাদের কৃতকর্মের জন্য শাস্তিভোগ করবে না? এমনি দাপুটে চরিত্রটি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছিলেন শুভ্রা চরিত্রে থাকা অর্চিতা স্পর্শিয়া। তার সাথে হওয়া অন্যায়ের বিচার আদায়ের জন্য লড়ে গিয়েছিলেন শেষ পর্যন্ত।

এই ফিল্ম টি প্রতিটা মেয়ের জন্য একটি ম্যাসেজ। এতটুকু চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, মেয়েরা যদি চুপ করে থাকে তবে যেকেউ যেকোনো সময় তাদেরকে নিজের খেলনা পুতুলের ন্যায় ব্যাবহার করতে পারবে।

ছোটপর্দার অভিনেত্রী ছিলেন অর্চিতা স্পর্শিয়া

এর আগে তিনি শর্ট ফিল্ম, নাটক এগুলোতে অভিনয় করেছেন। কিন্তু এবার যখন সুযোগ এসেছে আরেকটু বড় কোনো প্রজেক্টে কাজ করার, তখনই দেখিয়ে দিলেন তার সেরা অভিনয়। এভাবে চলতে থাকলে অতিশীঘ্রই তিনি অনেক অভিনেত্রীকে পেছনে ফেলে হয়তো ফিল্মের লীড এক্ট্রেস হিসেবেও কাজ পেয়ে যাবেন।

লীড এক্ট্রেসের কথা যখন আসলোই তখন একবার নজর দেওয়া যাক মাহিয়া মাহীর অভিনয়ের দিকে। কি আর বলবো! সব থেকে দূর্বল অভিনয় বোধহয় মাহিয়া মাহীই করেছেন। উনি অভিনয় কি করবেন, উনার কথা বলার বাচনভঙ্গিই পছন্দ হয় না আমার কাছে। উনার কথাবার্তার মধ্যে একটা আমেরিকান আমেরিকান ব্যপার নজরে এসেছে।

“আমি কোউররি না, আমি পোউররি না” এগুলা কি ভাই? যার শব্দচয়নই ঠিকমতো হয় না, সে আবার কি অভিনয় করবে আর কি ই বা চরিত্র ফুটিয়ে তুলবে? আমার যেটা মনে হয় উনি যদি কোনো অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা হতেন বা কোন বিচারক পদে থাকতেন তবে ভালো পারফরম্যান্স করতেন। অভিনয় তার জন্য নয়।
ধরলাম এই ফিল্মে তার তেমন কোনো ভূমিকা ছিলো না।

কিন্তু এর আগে তিনি ২০১৪ সালে “অগ্নি” ফিল্ম করেছিলেন, যেখানে মাহিয়া মাহীকে ঘিরেই ছিলো পুরো গল্প। সেখানেও তার এরকম আমেরিকান স্টাইলে কথা বলা খুবই দৃষ্টিকটু লেগেছে আমার কাছে। তারপর ২০১৩ সালে “পোড়ামন” ফিল্মে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

সেই ফিল্মে মাহিয়া মাহীই ছিলেন একজন গ্রামের মেয়ে

এখন আপনারাই বলুন কোনো গ্রামের মেয়ে কি ওমন “কোউররি না, পোউররি না” বলে কথা বলে? ঠিক তেমনি হয়েছিল সেই ফিল্মেও। মানে একটা যাচ্ছে তাই অবস্থা।

সবার শেষে আসছে শাকিব খানের কথা। হ্যাঁ অবশ্যই অনেক ভালো অভিনয় করেছেন তিনি। গল্পের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই তিনি অভিনয় করেছেন। চ্যাপ্টার ১ এ ছিলো নবাবের অভিনয়। পুরোটা সময় শাকিব খানের কাজ ছিলো ভাড়ামী করা, লোকহাসানো।

সেটা খুবই সুন্দর ভাবে করেছিলেন এবং চ্যাপ্টার ২ এ যখন উকিল হিসেবে তার অভিনয়ে সূচনা হয় সেই সময়ও ওকালতিটা বেশ সুন্দর করেই তুলে ধরেছিলেন। তবে শাকিব খানের ন্যাচারাল অভিনয় আমার চোখে পড়েনি। ওকালতির সময়ও একটা নবাবি ভাব ছিলো তার মধ্যে।

এই নবাবি ভাব কাটিয়ে গল্পের চরিত্রটি পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে পারেনি তিনি। তার মধ্যে সম্পূর্ণ একজন উকিলকে দেখতে পাইনি আমি। ওভারঅল ফিল্মটি সময়োপযোগী একটি ফিল্ম। দেশের পর্যায়পরিস্থিতির সাথে খাপখাইয়ে ফিল্মটি করা হয়েছে।

বর্তমান সময়ের নারীদের উপর করা নির্যাতন এবং সেই নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে তার কাঙ্ক্ষিত বিচার কতটুকুই দেওয়া হবে বা আদোও দেওয়া হবে কি সেটা খুবই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এই ফিল্মে।

পাশাপাশি সেই বিচার পাওয়ার জন্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিরূপ হয়, সব জায়গায় কিভাবে বড় বড় দলের নেতাদের গোলামী করতে হয় এবং সেই কাঙ্ক্ষিত বিচার পাওয়ার জন্য একজন সাহসী নারীর শেষ পর্যন্ত লড়াই এই ফিল্মের মূল আলোচ্য বিষয়।

যারা এখনো দেখেননি তারা অবশ্যই itheatre app এ রেজিষ্ট্রেশন করে দেখবে

আর কেউ ডাউনলোড লিংক চাইবেন না। বাংলাদেশের সিনেমা হল আগে ছিলো ১৪০০ আর সেটা কমতে কমতে এখন ১৫০ এর নিচে এসে দাঁড়িয়েছে।

করোনার এই মহামারীর মধ্যেও পরিচালক প্রযোজকরা আমাদের বিনোদনের কথা মাথায় রেখে নতুন নতুন ফিল্ম উপহার দিচ্ছেন আর সেই ফিল্ম দেখার জন্য আমরা কিছু টাকা ব্যয় করবো না তা কি করে হয়?

এভাবে চলতে থাকলে একসময় ঢালিউড বলেই আর কিছু থাকবে না। তখন খালি আফসোস করতে হবে যে “ইশ আমরাও যদি এমন ফিল্ম দেখতে পারতাম! টাকা লাগে লাগুক”। ভালো এবং যুক্তিনির্ভর কাহিনী সমৃদ্ধ ফিল্ম এদেশেও রয়েছে আর সেই ফিল্মগুলো রক্ষাকরার দ্বায়িত্ব আমাদের সকলের।

Leave a Reply