ম্যাট্রিক্স এর সিকুয়াল আসছে সামনে

ম্যাট্রিক্স এর সিকুয়াল আসছে সামনে, আর ম্যাট্রিক্স (১,২,৩) এমন তিনটা মুভি যেটা আমরা কমবেশি সবাই দেখেছি কিন্তু মুভির কাহিনী বুঝাতে বললে অনেকেই হয়তো পারবো না।

তাই যারা দ্যা ম্যাট্রিক্স এর মূল কাহিনী বুঝেছেন তাদের জন্য রিভিশন আর যারা একদমই বুঝেন নি তাদের জন্য একসাথে তিনটি মুভি সম্পর্কে ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করবো আজকের লেখায়।

মানুষ একসময় আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ওয়ালা রোবটের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলো যারা নিজেরা ডিসিশান নিতে পারতো। ২০৯০ সালে এক রোবট নিজের সেলফ ডিফেন্সের জন্য তার মালিককেই খুন করে ফেলে যার জন্য তাকে এরেস্ট করা হয়।

সেসময় মানুষের মাঝে দুইটা ভাগ হয়ে যায়- একদল মনে করতো রোবটদের বাঁচার অধিকার আছে, আর আরেকদল মনে করতো এরা জাস্ট মেশিন; তাদের কোনো অধিকার নাই, সব রোবট ধংস করে ফেলা উচিত।

স্পয়লার আছে ম্যাট্রিক্সের ইতিহাস :

ফাইনালি ঐ রোবটসহ অনেক রোবট একে একে ধংস করে ফেলা হয়, কিন্তু এর মাঝে কিছু রোবট বেঁচে যায়। এখান থেকে মানুষ আর রোবটের মাঝে যুদ্ধ শুরু হয়। রোবটরা সোলার পাওয়ারে চলতো, তাই মানুষ “অপারেশন ডার্ক স্টর্ম” এর মাধ্যমে পুরো পৃথিবীর বায়ুমন্ডলকে ঢেকে দেয় যাতে সূর্যের আলোই আসতে না পারে।

কিন্তু এতেও কাজ হচ্ছিলো না, কারন রোবটরা তখন এমন প্রযুক্তি বের করে ফেলে যাতে তারা মানুষের শরীর থেকেই পাওয়ার পেতে পারে (যেটা তারা করতো যুদ্ধবন্দী মানুষের দ্বারা)। মানুষ এরপরে এটম বোমা মেরে দেয়, কিন্তু তাতেও কাজ হয়না।

এরপর রোবটরা বায়োলজিক্যাল ওয়েপন দেখিয়ে মানুষকে আত্বসমর্পণ করতে বাধ্য করে। পুরো পৃথিবীর এই অবস্থা দেখে রোবটের সাপোর্টার মানুষ আর রোবটরা এক হয়ে একটি প্রোগ্রাম বানায় যা আসলে রিয়েল ওয়ার্ল্ডের একটি সিমুলেশন ভার্সন (অনেকটা ভিডিও গেমের মত)।

ম্যাট্রিক্সে কানেক্ট হয়ে মানুষ এক জায়গায় ঘুমন্ত অবস্থায় থেকেও সুন্দর পৃথিবীর জীবন উপভোগ করতে পারবে। এই সিমুলেশন সফটওয়্যারের নামই হল “দ্যা ম্যাট্রিক্স”। ম্যাট্রিক্স এর সাথে কানেক্ট থাকার সময় মানুষের শরীর থেকে তাপ এবং এনার্জি তৈরি হয় যেটা রোবটরা শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে ।

তার মানে বেশি বেশি মানুষ ম্যাট্রিক্সে কানেক্ট থাকা মানে বেশি বেশি এনার্জি ! তাই পৃথিবীতে যত মানুষ আছে সবাইকে রোবটরা ম্যাট্রিক্সে কানেক্ট করে দেয়। এতক্ষন যা যা বললাম এটা আপনি মুভিতে পাবেন না, এর জন্য দেখতে হবে এনিম্যাট্রিক্স নামক কার্টুন সিরিজ।

মূল ছবির কাহিনী :

ম্যাট্রিক্সের প্রথম ভার্সন এতোটাই পারফেক্ট ছিল যে মানুষের সন্দেহ হতে শুরু করে যে এটা রিয়েল ওয়ার্ল্ড না, আর মানুষ ঘুম থেকে জেগে উঠতে শুরু করে। তাই ম্যাট্রিক্সকে আপডেট করে রিয়েলের কাছাকাছি নিয়ে যেতে নতুন ভার্সন আকারে ছাড়া হয় যাতে মানুষের মনে সন্দেহ না জাগে আর তারা সারাজীবন ঘুমিয়েই থাকে।

বারবার কিছু না কিছু ভূল থাকার কারনে এভাবে ম্যাট্রিক্সের ছয়টি ভার্সন চলে আসে। দ্বিতীয় ভার্সনে নতুন একটি ফিচার যোগ করা হয় যেটাতে মানুষ আগে থেকেই প্রোগ্রাম করা কাজ না করে নিজের ইচ্ছামত রাস্তা বেছে নেওয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়।

কিন্তু এর ফলে ম্যাট্রিক্স প্রোগ্রামে একটা এনোমালি বা বাগ তৈরি হয় যার নাম “দ্যা ওয়ান”- এটাই নায়ক নিও। দ্যা ওয়ান কে ধরা মেশিনের পক্ষে অসম্ভব একটা কাজ ছিল; কারন এটি সব প্রোগ্রামের চেয়ে অনেক শক্তিশালী ছিল।

দ্যা ওয়ান কে ধরতে এবং কেউ যাতে ম্যাট্রিক্সকে হ্যাক করে এর মাঝে বাইরে থেকে ঢুকে পড়তে না পারে সেজন্য বানানো হয় “এজেন্ট” প্রোগ্রাম (কালো সানগ্লাসওয়ালা একই চেহারার ভিলেন)। বলা যেতে পারে যদি নিও ভাইরাস হয় তো এজেন্ট অনেকটা এন্টিভাইরাস এর মত কাজ করে।

আসলে দ্যা ওয়ান কে ধরার জন্য রোবটরা ইচ্ছা করেই কিছু লোকজনকে তাদের ম্যাট্রিক্স দুনিয়া থেকে ছেড়ে দিতো, তারা জায়েন নামক জায়গায় থাকতো, তাদের বিশ্বাস ছিল দ্যা ওয়ান-ই পারবে মানুষকে রোবটের হাত থেকে রক্ষা করতে, তারা তাই দ্যা ওয়ান কে খোঁজার চেষ্টা করতো (আসলে পুরোটাই ছিল আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের প্ল্যান যাতে এনোমালি কে বের করা যায়) ।

এদের টিমের সর্দার মরফিয়াস আর টিমের মাঝে আরো কিছু লোকজন ছিল যার একজন হল ট্রিনিটি (নায়িকা)। এরা সবাই “ওরাকল” কে খুব মানতো যে কিনা আসলে একটা প্রোগ্রাম ছিল (এই ওরাকল মহিলাও একটা স্পাই যার কাজ ছিল মানুষের সাথে মিশে ম্যাট্রিক্সের কি কি আপডেট দরকার সেট খুঁজে বের করা, আর মানুষের সব ইনফরমেশন লিক করা)।

ব্যাক ডোর এক্সেস এর মাধ্যমে ম্যাট্রিক্সে ঢুকে পড়ে

ছবির শুরুতে দেখানো হয় নায়ক যে দিনের বেলা একটা সফটওয়্যার কম্পানিতে চাকরি করে আর রাতের বেলা “নিও” নাম নিয়ে হ্যাকিং করে। আসলে এটা ম্যাট্রিক্সের ভেতরে চলছে, ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড, যেটা নিও নিজেও জানে না।

ট্রিনিটি হ্যাক করে ব্যাক ডোর এক্সেস এর মাধ্যমে ম্যাট্রিক্সে ঢুকে পড়ে নিও এর সাথে যোগাযোগ করে আর বলে মরফিয়াসের সাথে কথা বলতে। সেখানে নিও জানতে পারে যে সে আসলে যেটাকে রিয়েল ওয়ার্ল্ড মনে করছে সেটা আসলে একটা সিমুলেশন মাত্র।

মরফিয়াস ডেমো দেখাতে গিয়ে নিও এর হার্টবিট এতো বেড়ে যায় যে সে ঘুম থেকে জেগে উঠে আর মরফিউয়াসের দল নিও এর আসল বডি যেটা রোবটেদের ল্যাবে ঘুমন্ত ছিল; ওখান থেকে উদ্ধার করে জায়েন এ নিয়ে আসে।

যেহেতু ম্যাট্রিক্স কোনো রিয়েল ওয়ার্ল্ড না, তাই ফিজিক্সের ল এখানে যে মানতেই হবে তার কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই, প্রোগ্রামকে চেঞ্জও করা সম্ভব, এজন্যই নিও এরকম আকাশে উড়ে উড়ে মারামারি করতে পারে !

যাই হোক মাঝে অনেক কাহিনী(স্কিপ করলাম), মারামারির পর- নিও এজেন্টকে হারিয়ে প্রামানিত হয় যে সে-ই দ্যা ওয়ান (আসলে রোবটরা এটাই চাচ্ছিলো)। তখন সে “কি-মেকার”।

প্রোগ্রামের সাথে দেখা করে “কি” নিয়ে সোর্স পর্যন্ত যায়

সেখানে তার দেখা হয় “আর্কিটেক্ট” প্রোগ্রামের সাথে যে কিনা ম্যাট্রিক্স বানিয়েছে। আর্কিটেক্ট তাকে বলে নিও আসলে চাইলেও রোবটদেরকে হারাতে পারবে না কারন সে শুধুই একটা এনোমালি আর তার ক্ষমতা ম্যাট্রিক্সের ভেতরেই সীমাবদ্ধ।

নিও কে দুইটি অপশন দেয়া হয়, এক- ম্যাট্রিক্স রিস্টার্ট করতে হবে, আর কিছু লোক পছন্দ করতে হবে যাদেরকে ম্যাট্রিক্স থেকে ছেড়ে দেয়া হবে যাতে তারা নতুন জায়েন বানাতে পারে, দুই – কিছু না করে চলে যাও, কিন্তু এতে সিস্টেম ক্র্যাস করবে, ম্যাট্রিক্সের ভেতরের সবাই মারা যাবে আর বাইরের সবাইকে মেরে ফেলা হবে।

আগের সব ভার্সনে দ্যা ওয়ান প্রথম অপশন চুজ করতো, এতে অন্তত কিছু মানুষ তো বাঁচতো, কিন্তু রোবটরা জায়েনে আক্রমন করে সব রিয়েল লোকজনদের মেরে ফেলতো (রোবটরা সবসময়ই জায়েন এর লোকেশন জানতো) , বাছাই করা নতুন লোকজনরা আবার জায়েন বানাতো, আবার নতুন দ্যা ওয়ানকে খুঁজতে বের হয়ে যেতো।

কিন্তু এই ভার্সনে নিও দ্বিতীয় অপশন নেয়, মানে কিছু না করে চলে যায়, কারন সে ট্রিনিটিকে ভালোবাসে আর তাকে বাঁচাতে চায়। সেখান থেকে বের হয়ে নিও ট্রিনিটিকে নিয়ে ম্যাট্রিক্স থেকে বের হয়ে আসে।

এদিকে রোবট জায়েনে আক্রমন চালিয়ে দেয়, কিন্তু মরফিয়াস আর তার পুরো টিম কোনোমতে বেঁচে ফেরে। সোর্সের সাথে দেখা করার ফলে নিও এর সাথে সোর্সের একটা ওয়ারলেস কানেকশন হয়ে যায়, যার ফলে সে হামলাকারী রোবটের লোকেশন বুঝার ক্ষমতা পেয়ে যায়।

রোবটের হামলা সামলে নিয়ে নিও কোমায় চলে যায়

পরে অবশ্য ট্রিনিটি আর নিও মিলে রোবটের সাথে আরেক ফাইটে ট্রিনিটি মারা যায়। এদিকে আগেরবারে নিও-এজেন্টের মারামারির সময় এজেন্ট সোর্সের সাথে ডিসকানেক্ট হয়ে যাওয়াতে এজেন্টও ম্যাট্রিক্সের জন্য একটা রিস্ক হয়ে যায়।

রোবটের সাথে নিও এর একটা চুক্তি হয় যেখানে কথা হয় যে রোবট জায়েনের লোকজনদের মারবে না আর তার বিনিময়ে এজেন্টকে নিও মেরে ফেলবে। ফাইনালি এজেন্টের সাথে নিও এর একটা লাস্ট ফাইট হয় যেখানে নিও নিজেকে এজেন্টের সাথে কানেক্ট করে একসাথে নিজেকে আর এজেন্টকে ধংস করে দেয়।

পরের সিনে দেখা যায় ম্যাট্রিক্সের সপ্তম ভার্সন লোড হচ্ছে – এটাই আমরা দেখবো আগামী ম্যাট্রিক্স-৪ এ।

ম্যাট্রিক্স মুভিটি সিনেমার ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক। এই মুভির কাহিনী এবং মিউজিকের সাথে হিন্দু মিথোলজির ছোঁয়া আছে (নেটে সার্চ করলে অনেক ফ্যাক্টই পাবেন)।

কিছু ব্যাপার ইচ্ছা করে স্কিপ করে গেছি, নাহয় লিখা আরো বড় হত। আশা করি অনেকের কনসেপ্ট ক্লিয়ার করতে পেরেছি, আর না পারলে ব্যার্থতা আমার। সবাইকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply