একটি ডার্ক কমেডি জনরার মুভি

আমরা জানি, আমাদের এই ভারতবর্ষে সেক্স বিষয়টি নিয়ে মানুষ খুব একটা খোলামেলা আলোচনা করেনা। যার ফলে, উইমেন সেক্সিসম এর বেশিরভাগই অজানা থেকে যায়। বিভিন্ন বয়সে নারীদের দৈহিক এবং মানসিক চাহিদার আদলে একটি ডার্ক কমেডি জনরার মুভি এটি।

কাহিনীর মূল ৪ ভিন্ন বয়সের ৪ জন নারীদের নিয়ে। প্রথমে আসি, একজন উঠতি বয়সী রেহানা আবিদির কথায়। সে কলেজে পড়ে এবং ভালো গান গায়। মিলি সাইরাসকে নিজের আইডল মনে করে। কিন্তু এতে একটি বিপত্তি হলো তার পরিবার অত্যন্ত কনজারভেটিভ এবং এসব কখনো হতে দিবেনা।

তাই সে লুকিয়ে লুকিয়ে বোরখার নিচে ওয়েস্টার্ন কাপড় পড়ে কলেজে যায় এবং সেই কাপড় সে যোগাড় করে চুরি করে। একদিন সে চুরি করে ধরা পড়ে এবং তার পরিবার তার সকল কর্মকাণ্ডের কথা জানতে পারে।

সে এতোই পটু তার কাজে যে ক্রমে তার পদোন্নতি হতে থাকে

এরপর আসি, এক মধ্যবয়সী মহিলা যিনি কিনা সংসারের খরচপাতি সামলানোর জন্য তার স্বামীর অগোচরে সেলসউইম্যানের কাজ করে। তার নাম শিরিন আসলাম।

কিন্তু তার স্বামী জানতে পারলে তাকে কাজ কখনই করতে দিবেনা কেননা তার স্বামীর মতে, নারীদের কাজ হলো সংসার পালন এবং বাচ্চা দেখাশোনা করা। তাই শিরিনের চাকরি তার স্বামীর পুরুষ অহংকারে বেশ নাড়া দেয়। পরে শিরিন জানতে পারে, তার স্বামী পরকীয়ার লিপ্ত।

**spoiler alert**

  1. Film : Lipstick under my burkha
  2. language: Hindi
  3. imdb: 6.8/10

starring: Ratna pathak shah, kankana sen, aahana kuman, plabita borthakur and so on.

আরেকজন নারী হলো লীলা যে কিনা তার নিজের ব্যবসা খুলতে চায় ওয়েডিং প্ল্যানার হিসেবে। কিন্তু এর আগেই লীলার বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। লীলার প্রেমিকের সাথে লীলার সম্পর্কের কথা সেই পাত্রকে জানানো হয়নি। লীলার মা তাই জলদি জলদি তাকে বিয়ে দিতে চাইতো কিন্তু তার প্রেমিক সেখানে বাঁধ সাজে।

সবশেষে আসি, হাওয়া মহলের মালিক বুয়াজির কথায়। বুয়াজির আসল নাম উষা কিন্তু সবাই উনাকে বুয়াজি বলে সম্বোধন করে। তিনি একজন বয়স্ক বিধবা মহিলা। সেইসাথে খুবই শক্ত মনোভাবের অধিকারী। কিন্তু তিনি এডাল্ট বই পড়তেন এবং সেই অনুযায়ী স্বপ্নের দুনিয়া বানাতেন। তার সেই দুনিয়ায় আগমণ ঘটে জাসপাল নামের সুইমিং ট্রেনারের।

বুয়াজি জাসপালের সাথে ফোনের মাধ্যমে সম্পর্ক

গড়ে তুলে কিন্তু জাসপাল জানত না যে তার ফোনের মেয়েটি আসলে বয়স্ক বুয়াজি। এভাবেই ৪ টা স্টোরিকে একত্র করে একটি মূল গল্প বানানো হয়েছে। ছবিতে সেক্সকে মেটাফোর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কমেডির মাধ্যমে আমাদের সমাজের কিছু নির্মম সত্য তুলে ধরা হয়েছে পুরো মুভি জুড়ে।

উইমেন সেক্সিসম নিয়ে মুভি বলিঊডে হাতে গোনা এবং এর মধ্যে এই মুভিটি আমার মতে সবচেয়ে বোল্ড । বলে রাখা ভালো, মুভিটি ভারতে ব্যান করা হয়েছিল। যা এখন বিলোপ করা হয়েছে।

মুভির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন রত্না পাঠক শাহ , কঙ্কনা সেনের মতো শক্তিশালী অভিনেত্রীরা। তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন অহনা কুমার এবং প্লাবিতা বড়ঠাকুরের মতো নবাগত অভিনেত্রীরা।

তবে এই মুভির মূল শক্তি এর কাহিনী এবং ডিরেকশন । শেষ পর্যন্ত দর্শক ধরে রাখার মতো মুভি এটি। মুভির গানগুলো মুভির ডার্ক হিউমারে একদম জান ঢেলে দিয়েছে। তাছাড়া রানটাইম একদম পারফেক্ট ছিল। যার কারণে বোরিং লাগেনি কোথাও।

মুভিতে বিভিন্ন দিক থেকে নারীদের অবস্থান দেখানো হয়েছে

কর্মক্ষেত্রে নারীদের যাওয়া, ঘর থেকে বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা , ঘর সামলানো এবং , সবশেষে দৈহিক এবং মানসিক চাহিদা এসব কিছু বেশ সুন্দর ভাবে দেখানো হয়েছে।

যারা ডার্ক কমেডির ফ্যান তাদের জন্য মুভিটি মাস্ট ওয়াচ। যারা একটু মাথা খাটিয়ে উপলব্ধি করতে ইচ্ছুক তারা এই মুভিটি দেখতে পারেন। এই মুভি সবার জন্য না।

বাজেট:-৩১০ কোটি

এক বছরে অনেক মুভি রিলিজ হয় তার মধ্যে কয়েকটা ভালো লাগে আবার কয়েকটা খারাপ লাগে আবার কয়েকটা মাস্টারপিস হয় আবার কয়েকটা একদম বস্তাপচা।

আজকে রিভিউ দিব বলিউড এর সবচেয়ে বড় বাজেটের মুভি নিয়ে। যেখানে অনেক সুপারস্টারদের ক্যরিয়ারে ৩০০ কোটি কালেকশন করা মুভি নাই সেখানে মেগাস্টার আমিরখানের শেষ মুভির বাজেটই হয় ৩১০কোটি💥 এতেই বোঝা যায় সে কোন লেভেলের অভিনয় করে। তার অভিনয় এর জন্য তাকে ভারতের টম

হাঙ্কস বলা হয়( টম হ্যঙ্কস একজন হলিউড অভিনেতা)

মুভিতে আরো ছিল আমার সবচেয়ে প্রিয় নাইকা ক্যটরিনা কাইফ। যার রোলটা একদম মারাত্মক ছিল। মুভিটা এত জনপ্রিয় ছিল এবং বক্স অফিসে তান্ডব চালিয়েছে। আগের করা Happy New Year (₹44.97 crore), Baahubali 2 (₹41 crore) এর ওপেনিং রেকর্ড চুলমার করে দিছে আমির খানের এই মুভি। এটি ৫২ কোটি টাকা কামিয়েছে যা বলিউড এর রেকর্ড।

এছাড়াও মুভিতে ছিল আমিতাব বাচচন।যদিও তার অভিনয় খুব একটা ভালো লাগেনি। এটাকে মাস্টারপিস বললে অনেক এ হাসাহাসি করে না বুঝেও। যেন একেকজন ক্রিটিকস হয়ে গিয়েছে। তবে যদি এটা মাস্টারপিস নাও হয় তবুও আমির খানের মুভি হিসেবে বলিউড এর সেরা মুভির একটা হয়ে থাকবে অবশ্যই।

কেউ যদি এটা দেখে থাকেন তবে আমাকে কমেন্ট বক্সে জানাবেন আর তার জন্য আরেকটা মুভি আছে Veer। মেগাস্টার সালমান খানের মুভিটি দেখে নিতে পারেন এটা আরো ভালো ছিল।

এই মুভিটির মাধ্যমে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ফিল্মফেয়ার বেস্ট এক্ট্রেসের নমিনেশন পায় ক্যাট। কিন্তু বর্তমান সময়ের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা আয়ুষ্মান খোড়ানা ক্যাটের অভিনয় ধুইয়ে দেয়…….. এখনকার সুপরিচিত পরিচালক আলী আব্বাস জাফরের প্রথম পরিচালনার কাজ ছিলো এটা। আবার ইমরান খানের সাথে ক্যাটের প্রথম কাজ ছিলো। একই সাথে ইয়াশ রাজ প্রোডাকশনের সাথেও ইমরানের প্রথম কাজ ছিলো।

তো বুঝাই যাচ্ছে মুভিটি অনেককিছুর জন্য প্রথম ব্যাপার স্যাপার ছিলো। 🟤হেডলাইন গেল। এবার বিস্তারিত সংবাদ। তার বলে নেই এই সংবাদে কোনোরূপ স্পয়লার ঘটিত দোঁ-আশ মাটি নেই🟤 বেশ কিছুদিন ধরে আমি চাচ্ছিলাম কয়েকটি রিভিউ লিখতে। একটি ক্লাসিক মুভি ও একটি অসাধারণ এনিমে মুভির রিভিউ শেষ হয়েও ছোটগল্পের মতো শ্যাষ হয়েও শ্যাষ হচ্ছে না।

তাই আজ হালকা একটি মুভি নিয়ে কথা বলতে এলুম

এবার মূলকথায় আসি, আমার ভাইয়ের বউ নামক এই মুভিটি একটি টিপিক্যাল বলিউড মাসালা মুভি। যেখানে গাহান আছে, ফ্যামলি ড্যামা আছে, রোমাঞ্চ আছে, না পাওয়ার হতাশার গাহানও আছে মানে ফুল ফ্যামলি প্যাকেজ। এক্কেবারে টিপিক্যাল বলিউড মুভি।

অভিনয়ের কথা বললে আলী জাফর বেশ ইম্প্রেসিভ ছিলো। যদিও ও মুভির লিড ক্যারেক্টার নয়। এই মুভির লিড নায়ক হিসেবে আছে ইমরান খান। এমন ভ্যাবলা মার্কা ক্যারেক্টার ও এর আগেও করেছে। আর এমন ক্যারেক্টার ও বেশ ভালোই করে থাকে।

আর লিড নায়িকা ক্যাটের যথেস্ট চিল্লাচিল্লি আপনি খুঁজে পাবেন। যা স্টার চ্যানেলের হয়ে এমন সমালোচনা আয়ুষ্মান খোড়ানা করেছিলো। তখন আয়ুষ্মান এঙ্কারিং করত। কিন্তু ক্যাট এই মুভিতে যথেষ্ট চেষ্টা করেছে।

আর কি লিখবো এই মুভি নিয়ে🙄 ওহো কয়েকজন কহিয়াছে আমি নাকি অকারণে রিভিউ বড় করে ফেলি। তাহলে আজ এই মুভিটি নিয়ে দুই লাইনে শ্যাষ করে দেই, আপনি এই মুভি দেখলেও দেখতে পারেন, না দেখলেই দেখতে পারেন। তবে রিভিউটি অবশ্যই পড়বেন😝😝 🤪😝

Leave a Reply