তবে আপনারা চাইলে অনির্বাণের টা ইমাজিন করে পুষিয়ে নিতে পারেন

ড্রাকুলা স্যার (Dracula Sir) | বাংলা রিভিউ ও এক্সপ্রেশন | রক্ত পান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর | বাংলার ইতিহাসে ব্যতিক্রমী সিনেমা | বিশেষ দ্রষ্টব্য রক্তপান স্বাস্থ্যের পক্ষে

ক্ষতিকারক পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেমের চিঠি গুলো যুদ্ধের রণাঙ্গন থেকেই লেখা হয় কোন এক ট্রেনে বসে বারুদের গন্ধে মৃত্যুর শীতল ছায়ায় আহ কি ডায়লগ মারলাম জানি ডায়লগ ডেলিভারি খুবই বাজে হয়েছে।

তবে আপনারা চাইলে অনির্বাণের টা ইমাজিন করে পুষিয়ে নিতে পারেন। সাল ১৯৭১ কলকাতা তখন যেন এক রণক্ষেত্র পুঁজিবাদীদের একচেটিয়াভাবে বিরোধিতা করে যাচ্ছে কিছু মার্কসবাদী নকশাল আন্দোলন গল্পটা এক ভুক্তভোগী কমরেড অমল এর।

সাল ২০২০ রক্তিম চৌধুরী একটা স্কুলের বাংলা শিক্ষক তার অস্বাভাবিক দুটি পাওয়ার এর জন্য শিক্ষার্থীরা নাম দিয়েছে ড্রাকুলাস্যার। বাচ্চাদের কাছে ভয়ের কারণ আর বাকি সবার কাছে উপহাসের পাত্র আক্ষরিক অর্থে গল্প এতোটুকুই! কিন্তু গল্পের ডেপ টা অনেক বেশি বলতে দ্বিধা নেই এ।

বছরে বাংলার অন্যতম সেরা কাজ হল ড্রাকুলা স্যার

এ ধরনের সিনেমা যে বাংলার ক্ষেত্রে অনেকটাই নতুন তা নিশ্চয়ই বলতে হবেনা , কিছু সিনেমা রয়েছে যার আবেশ সিনেমা শেষ হওয়ার পরও অনেকক্ষণ থাকে।

ড্রাকুলা স্যার অনেকটা সেরকমই সিনেমার গল্প বলার দিকটার দারুন চ্যাপ্টার বাই চ্যাপ্টার গল্প বলা হয়েছে কিছুটা non-linear স্ক্রিনপ্লে টাইপ সিনেমা তবে তা ও সহজবোধ্য।

সিনেমার অন্যতম প্লাস পয়েন্ট ছিল এর মিউজিক, হক তা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গান গানগুলো শ্রুতি মধুর হওয়ার পাশাপাশি ঠিকঠাকভাবে প্লেসমেন্টের কারণে সিনেমা দেখার আমেজটা আরো বেড়ে যায়।

সিনেমাটোগ্রাফি আর কালার টোন এর ব্যবহারের নিপুণতার ছাপ রয়েছে আর অভিনয় নিয়ে আলাদা করে যার কথা বলতেই হয় তিনি হলো, অনির্বাণ এককথায় অনবদ্য

অনেক ক্রিটিক্স রা তো এটাও বলেছে তার পারফরমেন্সে হোয়াকিন ফিনিক্স এর জোকারের কিছুটা সাপ রয়েছে আর বাকি সবাই নিজেদের জায়গায় পার্ফেক্ট ছিল।

সব মিলিয়ে ড্রাকুলা স্যার ছিল বাংলা সিনেমা আমি তার কাছে এক প্রকার ট্রিট

এবার শুরু করছি এক্সপ্লেনেশন তাই প্রথমেই বলে রাখি স্পয়লার এলার্ট আপনি যদি এখনও সিনেমাটি না দেখে থাকেন তাহলে সিনেমাটি দেখার পর এক্সপ্লেনেশন পোস্ট টি দেখে নেবেন।

ডাকুলাস্যার, সিনেমাটি আমাদের মাঝে বেশ কিছু প্রশ্ন রেখে গেছে অনেকেরই বুঝতে কিছু সমস্যা হয়েছে তো সিনেমার অনেক বিষয় ক্লিয়ার নেই তবে সবকিছু এক্সপ্লেইন করতে গিয়ে অযথা।

মূল বিষয়ের এক্সপ্লেনেশন জানা থাকলে বাকি বিষয়গুলো ক্লিয়ার হয়ে যাবে, আর মূল বিষয়টি হলো সিনেমাতে কি চলছে হ্যালুসিনেশন নারী রেইনকার্নেশন সিনেমার প্রথম দিকের বিষয়গুলি আমাদের এমন ভাবে দেখানো হয়েছে যে আমরা অনেকটাই ভেবে নিয়েছিলাম যে এটি রেইনকার্নেশন বা পুনর্জন্মের গল্প।

এবং এটা ভাবাটাই প্রাসঙ্গিক ছিল অর্থাৎ বিষয়টি এমন হয়ে যাচ্ছিল যে বিপ্লবী অমন্সম এর রিভেঞ্জ নেয়াটাই হলো রক্তিম এর মূল উদ্দেশ্য ,
আর সিনেমার চ্যাপ্টার ওয়াইজ তেমনটাই এগোচ্ছিল কিন্তু একপর্যায়ে গিয়ে দেখা যায় সবিতার ইল্যুশন।

আর থিওরিটা বেশ ষ্ট্রং এবং বিষয়টি একটি ৮০ পার্সেন্ট প্লেয়ার প্রথমত আপনাকে রক্তিমের মেন্টাল কন্ডিশন সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে সে অনেক অবহেলিত প্রায় সব থেকে বিচ্ছিন্ন একজন পারসন সে সবসময় হতাশায় ভোগে ডিপ্রেশন তার নিত্যসঙ্গী।

এবং তার ফিলিংস গুলোর বই প্রকাশ করতে পারে না এই সময় সে এক বৃদ্ধের কাছে শুনে বিপ্লবী অমল সিমের কথা আর তাছাড়া সে কিছু নকশালের বই পড়ে এরকম কিছু বিষয়ে তার ফ্রাস্ট্রেটেড মেন্টাল কন্ডিশনে বিশেষ ইফেক্ট ফেলে যার ফলে সে নিজেকে অমন্সম ভাবতে শুরু করে।

এই পুরো বিষয়টিই সাইকোলজিকাল এরপর সে তাঁর নানা কাজে কর্মে নিজেকে পুনর্জন্ম প্রাপ্ত কমলসম হিসেবে পরিচয় দিতে থাকে তো তার এই হ্যালুসিনেশনের কারণে সে আরো কিছু চরিত্র তৈরি করে যার ফলে সে তার হ্যালুসিনেট জগতের সাথে বাস্তব জগতের ক্রস ওভার ঘটায়।

যেমন কাতোয় চরিত্রটি বাড়িওয়ালার ক্যারেক্টার থেকে নিয়ে আর নাটা চরিত্রটি বাড়িওয়ালাদের স্ত্রী থেকে নিয়ে রক্তিম নিজের আলাদা জগতে প্লেসমেন্ট করছে বিষয়টি ক্লিয়ার করতে বাড়িওয়ালার ভাঙ্গা পা নিয়ে একটি পসিবিলিটি তো ছিলই।

পোস্ট বড় করব না

তাছাড়া তার যুবক বয়সের ছবি বিষয়টিকে আরও ক্লিয়ার করে দেয়। আর নাটার বিষয়টি নিয়ে একটু ধোঁয়াশা ছিল বাট সেটিকেও অনেকটাই ক্লিয়ারলি মেনশন করা হয়েছে মঞ্জুরীর বিষয়টি নিয়ে একটু পরে বলি রক্তিমের এসব যে তার ইল্যুশন এটা প্রমাণ হলো বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার বিষয়টি।

যা একটি রিসেন্ট ঘটনা আর ১৯৭১ এমন ঘটনা আর ঘটেনি তার হ্যালুসিনেশনের জগতের রক্তিম তার সেই ঘটনার ক্রসবার ঘটাচ্ছে আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো অমলন্সম যেখানে মারায় যায়নি সেখানে তার পুনর্জন্ম হবে কিভাবে???

এবার আসছে মঞ্জুরীর বিষয়টি সেই বৃদ্ধ যে কিনা আসল অমন্সম তার কাছ থেকে রক্তিম মঞ্জুরীর কথা শুনে সে নিজেই মঞ্জুরি চরিত্র সাজিয়েছে, আর মঞ্জুরি হিসেবে যাকে সে কল্পনা করেছে তাকে হয়তো সে আগে কোথাও দেখেছে।

এবং মঞ্জুরীর বাড়ি চিনতে পারার এক্সপ্লেনেশন হচ্ছে হয়তো সে মঞ্জুরীর বাড়ি আগে কোথাও দেখেছে। এবার লাস্ট টুইস্ট এ আসুন সেই ছবিটা যা সে মঞ্জুরীর বাড়িতে দেখে সেখানে সে নিজেকে মঞ্জুরীর স্বামী হিসেবে দেখতে পায়।

যেখান থেকে ২০ শতাংশ সম্ভাবনার শুরু যে এটা কি আদৌ ইল্যুশান এই সিন পুরো সিনেমা উলটপালট করে দেয়া মত এই বিষয়টি সম্পূর্ণ আপনার উপর নির্ভর করছে আপনি বিষয়টিকে কিভাবে জাজ করবেন। হ্যাঁ রক্তিম মেন্টাল এসাইলাম থেকে মেডিকেল ক্লিয়ারেন্স পেয়েছেন।

তার জীবন ও এখন আর দশটা মানুষের মতো স্বাভাবিক ভাবেই চলছে কিন্তু সে কি পুরোপুরি সেই ইল্যুশন থেকে বের হতে সক্ষম হয়েছে?? সেটা একটা পসিবিলিটি ক্রিয়েট করে যে রক্তিম ছবিতে ভুল দেখেছিল তার আরেকটা পসিবিলিটি তো সেই ছবিতেই রয়েছে হতে পারে এটি সত্যিই পুনর্জন্ম।

এখন একেবারে পারফেক্ট ভাবে বলাটা টাফ কারণ সিনেমাটা open-ended তবে আপনাদের এ বিষয়ে কি মতামত তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন! তো আমার এই এক্সপ্লেনেশন পোস্ট এ যদি কোন তথ্য মিসিং থাকে বা কোন তথ্য ভুল থাকে তাহলে আমাকে অবশ্যই বলতে পারেন।

Leave a Reply