টেডি যে আসলেই মানসিক রোগী সেটা বোঝা যায়, মুভির শেষ কথা থেকে

একটা মুভি খুব সহজে আমাদের গল্প বলে যখন মানসিক রোগী বানিয়ে দেয় তখন কেমন লাগে? ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ”শাটার আইল্যান্ড ” মুভিতে আসলে এমনটাই ঘটে।

মুভিটা আমরা প্রথমে যেভাবে বুঝি আসলে ঘটনা ঠিক তা ঘটে না। মুভির শেষ বাক্যটা আমাদের ২ ঘণ্টা ধরে দেখানো সব গল্প উল্টা-পাল্টা করে দেয়। লেখা লম্বা না করে সরাসরি মেইনপ্লেটে চলে যাই।

শাটার আইল্যান্ড

Genres: Thriller/Mystery
Running time: 2h 19m
Director : Martin Scorsese
IMDb: 8.2/10
Cast : Leonardo DiCaprio, Mark Ruffalo

মেইনপ্লট

১৯৫৪ সালের ঘটনা, শাটার আইল্যান্ডের মানসিক হাসপাতাল(কারাগার) থেকে র‍্যাচেল নামে এক মহিলা রোগী রাতের বেলা পালিয়ে যায়। বিষয়টা তদন্তের জন্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ফেরত সৈনিক ও ইউএস মার্শাল টেডি এবং তার সহযোগী হিসেবে চাককে আইল্যান্ডে পাঠানো হয়।

এছাড়াও টেডি তার স্ত্রীর হত্যাকারী অ্যান্ড্রু লেডিসকে খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে সেখানে যায় । সেখানে গিয়ে টেডি জানতে পারেন পালিয়ে যাওয়া মহিলাটি তার তিন সন্তানকে বাড়ির পিছনের ডুবায় ডুবিয়ে হত্যা করেছে কিন্তু সে এখনো মনে করে তার সন্তানরা বেঁচে আছে এবং তারা স্কুলে।

সে পালিয়ে যাওয়ার পরেরদিন তার ডাক্তার শিহান ছুটিতে চলে গেছেন এটা জেনে টেডির মনে সন্দেহ তৈরি হয়। এই রহস্য উম্মোচনের জন্য টেডি এখানকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন।

ডাক্তারের ছুটিতে চলে যাওয়ার সাথে এই ঘটনার কোন সম্পর্ক আছে কিনা জানতে টেডি ডাক্তারের সকল ফাইল দেখতে চাইলে প্রধান কর্মকর্তা কাউলি দিতে অস্বীকৃতি জানায়, টেডি এতে রেগে যান এবং সকালে সব অনুসন্ধান বাদ দিয়ে চলে যাবেন বলে জানিয়ে দেন।

(স্পয়লার এলার্ট)

কিন্তু পরের দিন প্রচুর ঝড় হওয়া তারা আটকা পড়ে যান । টেডি তার সহযোগী চাককে তার সন্দেহের কথা জানান যে এখানে লুকিয়ে মানসিক বিকারগ্রস্থ রোগীদের মস্তিষ্ক সার্জারি করে খারাপ কিছু করা হচ্ছে। কি হচ্ছে এখানে এই রহস্য উম্মোচন করার জন্য তিনি ফিরে না গিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাবেন বলে ঠিক করেন।

তিনি অনুসন্ধান শুরু করে দেন তার সহযোগীকে নিয়ে। একপর্যায়ে টেডি জানতে পারেন তাকেও এখানে মানসিক রোগী বলে আটকে রাখা হবে, তিনি এখান থেকে কোনোদিন ফিরতে পারবেন না।

এরই ভেতর হঠাৎ তিনি তার সহযোগী চাককে হারিয়ে ফেলেন, চাককে খুঁজে পাওয়ার জন্য যান লাইটহাউজে যেখানে সার্জারি করা হয়। সেখানে যাওয়ার পর বোঝা যায় আসলে টেডিই একজন মানসিক রোগী, যার স্ত্রী তার তিন সন্তানদের বাড়ির পেছনের ডুবায় ডুবিয়ে হত্যা করেছিল।

টেডি যে আসলেই মানসিক রোগী সেটা বোঝা যায়,মুভির শেষ কথা থেকে। মূলত টেডিই অ্যান্ড্রু লেডিস আর এসবকিছুই তার কল্পনার তৈরি! সে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে, তার বাচ্চাদের বাচাতে পারেনি এ অপরাধরোধ নিয়ে বেচে থাকার চেয়ে সে নতুন এক চরিত্র তৈরি করে মুক্ত হতে চায়, ভালোভাবে বাঁচতে/মরতে চায়।

সে যদি মেনে নেয় সে বিকারগ্রস্থ তাহলে তাকে সার্জারি করা হবে আর সে দানবের মতো বেঁচে থাকবে। দানবের মতো বেঁচে থাকার চেয়ে বরং ভালো মানুষ থেকে মারা যাওয়া উত্তম। এজন্য সে নিজের মধ্যে টেডি নামের নতুন এক সত্ত্বা ধারন করে।

মন্তব্য:

আমার একটু বেশি সাই-ফাই আর থ্রিলার মুভি দেখা হয়। আমি ম Shutter Island এর মতো গল্প উলট-পালট করে দেওয়া মুভি বেশি দেখি নাই। সহজ কথাই এটা ছিল অসাধারণ একটা মুভি।

লিওনার্দো ডিক্যাপরিও এর অভিনয় বরাবরের মতোই ভালো লাগছে।
Personal Rating: 9/10

Leave a Reply