চলচ্চিত্র তে প্রধান উপকরণ হচ্ছে একদম সাবলীল অভিনয়

আমরা অনেকেই শিক্ষাজীবনে নকল করার মত আনএথিক্যাল বিষয়টি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি! সেটা পরীক্ষার সময় সাথে করে নকল বহন করে কিংবা বন্ধুবান্ধবের খাতার দিকে তাকিয়ে কিংবা অন্যকে নিজের খাতা দেখানোর মত অভিজ্ঞতা করেনি এমন খুব কম মানুষই রয়েছে!

তেমনি থাইল্যান্ডের একটি শহরের মধ্যবিত্ত শিক্ষকের একমাত্র মেয়ে Lynn. যে কিনা অসম্ভব মেধাবী! বিশেষ করে অংকে তার পারদর্শিতার জন্য যে অসংখ্যবার পুরস্কৃত হয়েছে!

সিনেমার শুরুতেই আমরা দেখতে পাই

Lynn এর বাবা তাকে দেশের স্বনামধন্য একটি স্কুলে নিয়ে যায়; সাথে করে নিয়ে যায় বিভিন্ন সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট! ওর বাবার প্লান থাকে যদি এসব দেখিয়ে ম্যাডামকে কোনভাবে পটিয়ে পড়াশুনার খরচ কমানো যদি যায়! কারণ এই স্কুলের ব্যয়ভার বহন করা উনার সাধ্যের বাইরে! প্রিন্সিপালের সাথে আলাপচারিতায় তখন Lynn বলে আমি স্কুলে পড়তে চাই না। আমার আগের স্কুলই ভালো!

প্রিন্সিপাল বলে কেন? তখন লিন বলে, এই স্কুলে যদি পড়ি তাহলে অনেক খরচ হবে! সে মুখে মুখেই তার মেধার কারিস্মা দেখিয়ে বের করে দেয় মোট কত খরচ হবে!
প্রিন্সিপাল ইম্প্রেসড হয়ে যান! উনি এমন মেধাবী ছাত্রী হাতছাড়া করতে চান না! তাই উনি পুরো পড়াশুনার খরচ ফ্রি করিয়ে দেন!

Lynn তার বেস্ট বান্ধুবী যে কিনা পড়াশুনায় মোটেও ভালো নয়। তাকে শুধুমাত্র ভালোবাসার খাতিরে অত্যন্ত সুচতুরতার প্রশ্নের উত্তর দেখিয়ে পাশ করিয়ে দেয়!
আর এই ব্যাপারটাই তার ঐ বান্ধবীর মাধ্যমে তার বয়ফ্রেন্ড এর কানে যায়। সেই ছেলেসহ অন্যান্য ধনীর দুলাল দুলালীরা Lynn কে প্রতিটি পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার বিনিয়মে মোটা অঙ্কের টাকা Pay করার প্রস্তাব দেয়!

পরবর্তীতে আমরা দেখতে পাই

পরীক্ষার হলে একসাথে নিজে পাশ করার সাথে সাথে ডজন খানেক মানুষকে কীভাবে পাশ করাবে তার জন্য Lynn আবিষ্কার করে এমন এক ট্রিক্স; আর যার মাধ্যমে সে সফলতার সাথে হাজার হাজার টাকা কামাতে শুরু করে!

কিন্তু Lynn এর এই মেধার আনএথিক্যাল ব্যবহার আর টাকার চাহিদা বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় চিটিং এর মত ঘটনার সাথে জড়িয়ে ফেলে…কী হয় Lynn এর শেষ পরিণতি তা জানতে হলে দেখতে হবে এই সিনেমাটি!

থ্রিলিং দিয়ে ভরপুর এই সিনেমাটির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমি উপভোগ করেছি! আহা! এত দূর্দান্ত একটি সিনেমা ৩ বছর পর দেখার জন্য অবশ্য অনেক অনেক আফসোস হয়েছে! Bad Genius আমাকে বাধ্য করেছে থাইল্যান্ডের অন্যান্য সিনেমা দেখার জন্য আগ্রহ জাগাতে… আশা করি খুব শীঘ্রই থাইল্যান্ডের অন্যান্য সিনেমা দেখার সুযোগ হবে!

রেটিংঃ ভালো সিনেমার রেটিং হয় না 😑

মনে আছে,Infinity War আর Guardian of the Galaxy তে দেখনো Knowhere (pronounced “no where”) জায়গাটির কথা।
Upcoming Thor Movie”Thor Love And Thunder” এর সাথে এর বড়ো একটা Connection আছে”
যেখানে Main Villain থাকবে “Gorr” যার Role করবেন,Christian Bale (The Dark Night এর Batman)

Gorr এর কাহিনী সংক্ষেপে যদি বলি

এমন একটা Planet যেটা ধ্বংসর পথে,আর সেই Planet এরই কিছুমাত্র জীব কোনোমত বেচে থাকে,যার একজন “Gorr”,এর মাঝেই Gorr এর ছোট্ট বাচ্চা ক্ষুধা তৃষায় মারা যায়।এরপর থেকে Gorr তাদের God এর উপর অনেক রেগে থাকে,কোনো একদিন ২জন God এর মাঝে মারামারি এক পর্যায়ে ঐ Planet এ এসে পড়ে। দুই God এ আহত অবস্থায় ছিলো।

Gorr সেই God এর পড়ে থাকা Sword উঠিয়ে দুইজন God কেই মেরে ফেলে।এই God এর একজন এর নাম ছিলে “Null”,যে কিনা তার Past কাহিনীতে “Celestial”(এর প্লানেট,Star বানাতো) এর সাথে একটা যুদ্ধে Null তার Sword দিয়ে একটা Celestial এর মাথা আলাদা করে দেয়।আর সেই Celestial এর মাথাই হলো Knowwhere (আশা করি এর Back story Thor next movie তে Reveal করবে)

Gorr দুই God কে মারার পর ওদের সব শক্তি Gorr এ চলে আসে।এরপর Gorr বেড়োয় Revnege নিতে,ঐসব God যাদের ও নিজের ওমন ভাগ্যর জন্য দায়ী ভাবে।আরে বেশকিছু God কে মারার পর তার সামনা হয় The God of Thunder Thor এর সাথে।অনেক বড়ো একটা Fight হয় দুজনের মাঝে।আর এক পর্যায়ে Thor Gorr কে হারায়।

Thor এরপর বুঝতে পারে যে Gorr যেটা করতাছিলো,এতে God দেরও দোষ ছিলো। এরপর Nick Fury Thor কানে এসে বলে, “Maybe Gorr was Right” এটা শোনার সাথে Thor Unworthy হয়ে যায়। Comics এর এই স্টোরিই Movie তে দেয়ার সম্ভাবনা অনেক।আপনার মত কি,কি কি হতে পারে?

পথ শিশু, প্রতিদিন ফুটপাথের পাসে বসে থাকতে দেখি আমরা, কখনো ভেবে দেখেছেন কেমন তাদের জীবন যাপন? কৃষ্ণা ৫০০ টাকা চুরির দায়ে বাসায় মারধর খেয়ে মায়ের উপর রাগ করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে। সেই টাকা কামাই করতে পারলেই ফিরবে মায়ের কাছে।

যদিও দেখে মনে হবে সিনেমার মুল চরিত্র কৃষ্ণা

প্রথমে এক সার্কাসের সাথে যুক্ত হয়, কিন্তু সেই সার্কাসের সাথেও তার বেশিদিন টিকল না, পানের জর্দা কিনতে যায় বাজারে,এসে দেখে সেই সার্কাস চলে গেছে, তারপর ট্রেনের টিকেট কিনে চলে আসে বোম্বাই শহরে,উদ্দেশ্য ৫০০ টাকা আয় করা।

সেই টাকা আয় করতে গিয়ে বোম্বাই এর রেড লাইট জোনে চা বিক্রেতা হয়ে যায় কৃষ্ণা ও অবলোকন করে অন্ধকার জগতে হাতড়ে ফিরছে কত শত মানুষ, আর এই হতভাগাদের পথ দেখানোর নামে একদল চালিয়ে শেয়াল তাদের খুবরে খাচ্ছে।

কিন্তু শেষ হবার পরে মনে হবে কৃষ্ণা আসলে আপনার পথ প্রদর্শক, এই মুম্বাই শহরের অন্ধকার গলিতে আপনাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখাবে আপনাকে জানাবে না জানা অনেক সত্য কথা।

একদিন কৃষ্ণার ইচ্ছা হয় সে মায়ের কাছে একটা চিঠি পাঠাবে, এক পত্র লেখক কে ধরে সে চিঠি লেখায়, মা ৫০০ টাকা জোগাড় হলেই বাড়ি চলে আসব। সেই পত্র লেখকের চরিত্র দিয়ে যাত্রা শুরু বিশ্ব বরেণ্য অভিনেতা ইরফান খানের। মাত্র আড়াই মিনিটের জন্য তাকে দেখা যায়, যার বেশির ভাগ সময়ই তার সাইড ফেস ফ্রেমে দেখা যায়।

ডকুমেন্টারি স্টাইলে তৈরি করা চলচ্চিত্রটিতে প্রধান উপকরণ হচ্ছে একদম সাবলীল অভিনয়। দেখে মনে হবে মঞ্চে আপনার সামনেই ঘটনা গুলো ঘটছে, তার সাথে অসাধারণ ক্যামেরার কাজ মুম্বাই শহরকে একেবারেই জীবন্ত মনে হবে।

আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে সিনেমাটি যেমন সুন্দর তেমন নির্দয়, কোন চরিত্রকে একদম ভিলেন দেখানো হয় নি আবার কাউকে একদম ফেরেশতা বানানো হয় নি। সিনেমার শেষে অনেকক্ষণ একটা অনুভূতি রয়ে যাবে, কি যেন বাকি রয়ে গেল।

Leave a Reply