ক্রিস্টোফার নোলানের অনেক বড় একজন ভক্ত আমি

ক্রিস্টোফার নোলানের অনেক বড় একজন ভক্ত আমি। তার সবগুলা মুভি ই দেখা শেষ। আমার মতে তার ক্যারিয়ারের ১১ টি মুভি From Worst To Best:-

Tenet(2020)

আমার মতে তার ক্যারিয়ারের সবথেকে বাজে মুভি এইটাই। সবথেকে শেষে এইটাকেই রাখবো।। নোলানের মুভির মিউজিক সারাজীবন মনোমুগ্ধকর হয়ে থাকে।

কিন্তু এই মুভির সাউন্ড এডিটিং এতটাই বাজে ছিল যে বিশ্বাস ই করতে পারছিলাম না যে এইটা নোলানের ই মুভি,ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের জ্বালায় ডায়ালগ ই শুনতে পাচ্ছিলাম না।

এছাড়াও স্টোরি & এক্সিকিউশয়ান ছিল অনেক দুর্বল,যা নোলানের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত। আর ক্যারেক্টর ডেভেলপমেন্ট অনেক দুর্বল ছিল,আর নেগেটিভ ক্যারেক্টর তো একেবারে চরম দুর্বল ছিল–বিগ বাজেটের মুভিতে যা একেবারেই মানা যায় না।

মোট মিলিয়ে অনেক হতাশ মুভিটা দেখে

Insomnia(2002)
ভালো,বাট নট বেস্ট। ১০ম স্থানে রাখবো এইটাকে

Following(1998)
তার ক্যারিয়ারের প্রথম মুভিটি অসাধারণ ছিল। কিন্তু বাজেটের স্বল্পতা ভালোভাবে নজরে এসেছে। ৯ম স্থানে রাখবো এইটাকে

The Dark Knight Rises(2012)
The Dark Knight Trilogy এর দুর্দান্ত একটা ইতি টানা হয়,এই মুভির মাধ্যমেই। আমার অনেক পছন্দের একটা মুভি। ৮ম স্থানে রাখবো এইটাকে

Batman Begins(2005)
এই মুভির মাধ্যমে সুপারহিরো মুভির প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। সিনেমাটোগ্রাফি অসাধারণ ছিল মুভিটার। নোলানের সেরা মুভির তালিকায় ৭ম এ রাখবো

The Prestige(2006)
নোলানের মাস্টারপিস মুভি। দুর্দান্ত আর্ট ডিরেকশন,অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফি,চমৎকার ডিরেকশন & Epic Ending –মোট মিলিয়ে নোলানের ক্যারিয়ারের সেরা মুভির তালিকায় এইটাকে ৬ষ্ঠ স্থানে রাখবো

Memento(2000)
ইউনিক মেকিং কাকে বলে এই মুভি দেখলেই বোঝা যায়। একেবারে ইররিভার্সেবল স্টাইলে বানানো হয়েছে মুভিতে,অর্থাৎ স্টোরিটেলিং ছিল বিপরীতমুখী।

এত সুন্দর মুভি তার ক্যারিয়ারের ২য় মুভি ভাবতেই কষ্ট হয়। এইটাকে তার ক্যারিয়ারের সেরা মুভির তালিকায় ৫ম স্থানে রাখবো

Dunkirk(2017)
আমার দেখা অন্যতম সেরা একটা ওয়ার মুভি। এই মুভির সাউন্ড মিক্সিং আমার দেখা One Of The Best।। আর ডিরেকশন তো দূর্দান্ত ছিল। সেরা ডিরেক্টর হিসেবে নোলান নিজের ক্যারিয়ারের একমাত্র অস্কার নমিনেশন এই মুভির মাধ্যমেই পেয়েছিল। এই মুভিটাকে সেরার তালিকায় ৪র্থ স্থানে রাখবো।

Inception(2010)
নোলানের ক্যারিয়ারের সবথেকে ইউনিক মেকিং।। মুভির স্টোরিটেলিংকে কয়েকভাগে ভাগ কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। চমৎকার ডিরেকশনের পাশাপাশি Oscar Winning সিনেমাটোগ্রাফি এবং গায়ে কাটা দেওয়ার মত মিউজিক নিঃসন্দেহে এই শতকের সেরা মুভিগুলার একটা। মুভিটাকে নোলানের সেরা মুভির তালিকায় ৩য় স্থানে রাখবো

Interstellar(2014)
প্রবাদ আছে Interstellar নাকি সাইন্সের স্টূডেন্টদের জন্য ঈদের মত । সাইন্সের স্টুডেন্ট হিসেবে এমন একটা দেখা টা সৌভাগ্যের বিষয়। স্পেস মুভি,তার সাথে টাইম ট্রাভেলের দুর্দান্ত কম্বিনেশন। পিওর মাস্টারপিস সাইন্স-ফিকশন কাকে বলে এই মুভিটা দেখলে ক্লিয়ার হয়ে যাওয়ার কথা। সম্ভবত এই শতকের সেরা ৫ টি সাইন্স-ফিকশন মুভিগুলার একটা।

নোলানের দারুণ ডিরেকশন

অসাধারণ ভিএফএক্স ওয়ার্ক,চমৎকার আর্ট ডিরেকশন,সিনেমাটোগ্রাফি,ইমোশনাল এন্ডিং,ম্যাচুয়ার কন্টেন্ট এবং হ্যান্স জিমারের অনবদ্য মিউজিকের পাশাপাশি সাইন্সিটিফিক টার্ম–মোট মিলিয়ে আমার দেখা অন্যতম সেরা মুভি । এই মুভিটিকে নোলানের সেরা মুভির তালিকায় ২য় স্থানে রাখবো নিশ্চয়ই এখন বুঝতে পারছেন ১ নাম্বারে কোন মুভিটা রয়েছে।

হ্যাঁ, এক নাম্বারে রাখবো নোলানের অমর সৃষ্টি The Dark Knight(2008) কে। পৃথিবীতে এমন কয়টা মুভি আছে,যেখানে হিরো নয় বরং ভিলেন সবার প্রিয়? হিরোকে কেউ প্রোফাইল পিকচার হিসেবে রাখেনা,কিন্তু ভিলেন কে প্রোফাইল পিকচার হিসেবে রাখে?

এইটা সেই মুভি যেটা দেখে মানুষ একজন ভিলেন কে ভালোবাসতে শেখে,একজন “Joker” কে ভালোবাসতে শেখে। এই মুভিকে যতটা নোলানের বলবো ততটাই হিথ লেজারের বলবো।

পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বপ্রথম সুপারহিরো মুভি যেইটার কোনো অভিনেতা সেরা অভিনেতা বিভাগে অস্কার অর্জন করে। নোলানের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ডিরেকশন, হিথ লেজার সহ সকলের অনবদ্য অভিনয়ের পাশাপাশি অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর সিনেমাটোগ্রাফি & সেরা লেভেলের Oscar Winning সাউন্ড এডিটিং, চমৎকার ফিল্ম এডিটিং & কস্টিউম ডিজাইন মিলিয়ে নিঃসন্দেহে এইটাকেই নোলানের ক্যারিয়ারের সেরা মুভি বলবো।

শুধু নোলানের সেরা না, নিজের দশক & এই শতকের পাশাপাশি সর্বকালের সেরা মুভিগুলার একটা নিঃসন্দেহে হ্যাঁ,এইটাই সেই মুভি যার ভিলেনকেই লোকে আইডল মানতে শুরু করে।

Joker❤️❤️❤️ #TheDarkKnight রাজস্থানে জন্ম নেয়া মানুষগুলো বেশ রঙিন। প্রকৃতি রূক্ষ। মানুষগুলো না। তারা জীবনরসে ভরপুর। মাথায় রঙিন পাগড়ি, বৈচিত্রপূর্ণ গান, খাবার।

তারা অদ্ভুত। অদ্ভুত ইরফান খানও। তার জন্মও রাজস্থানে।
“Irrfan khan” এর নাম আগে ছিলো “Irfan Khan.” পরে নামে একটা এক্সট্রা “R” যোগ করেন। কারণ অদ্ভুত। এই অতিরিক্ত “R” এর কারনে নামের উচ্চারণ নাকি

সুন্দর আসে। অদ্ভুতই তো!

স্ত্রী’কে নিয়ে একদিন চলে গেলেন পুলিশ স্টেশনে। পুলিশদের কাজকর্ম দেখবেন। সিনেমাতে লাগবে তার। সারাদিন সিনেমার সেটে থাকতেন। অভিনয় করতেন৷ “লাঞ্চ বক্স”এর খিটখিটে সরকারী চাকুরে। ” মাদারী”র ছেলে হারানো বাবা।

রাতে বাসায় ফিরে সোজা নিজের রুমে। ফ্রেশ হয়ে বই পড়া শুরু। অথবা সিনেমার স্ক্রিপ্ট। নিজের রুমেই নিজের মত অভিনয় করতেন। দেখতেন। সব ঠিকঠাক হচ্ছে কী না। সব ঠিকঠাক হলে এরপর ঘরের সবার সাথে কথাবার্তা। এর আগে না।

বলা হতো “ইন্ডিয়া’স ফেস ইন দ্য ওয়েস্ট।” হলিউডের বিগ বাজেটের সিনেমাগুলোতেও ছিলেন। ইনফার্নো, জুরাসিক ওয়ার্ল্ড, দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার ম্যান। স্ক্রিপ্টের তো কাঁটাতার হয়না। এত এত ভালো সিনেমা করেও নাক উঁচু হয়নি। পা মাটিতেই।

এসেছেন এ দেশেও। ডুবে গিয়েছেন “ডুব” সিনেমার লেখকের গল্পে। পর্দার “পান সিং” বাস্তবে ছিলেন ততটাই নম্র৷ যতটা আমরা ভেবে এসেছি। সেদিনই দেখলাম “আংরেজি মিডিয়াম।” ভেবেছিলাম অদ্ভুত রোগটাকে কাঁচকলা দেখানো গেলো। কিন্তু জীবন, ঝুপ করেই আঁধার নামিয়ে দেয় মাঝেসাঝে। লোডশেডিং এ থামি। কমে যায় সব কোলাহল।

শেষ কবে কোন অভিনেতার প্রয়াণে এমন খারাপ লেগেছিলো, জানিনা। ইরফানের অভিনয় দেখতাম। জানতাম, সবাই হতাশ করলেও একজন করবেন না। করেননি। কখনো করেননি। কোনো এক ক্রিটিক বলেছিলেন- Irfaan’s eyes speak louder than his words. পর্দায় এলেই সবকিছু নিজের দিকে টেনে নিতেন। কোনো জৌলুশের বালাই না নিয়ে। কী সাবলীল!

বড়সড় তারাদের ভীড়ে “ইরফান খান” ছিলেন আমাদের খুব কাছের তারা৷ যাকে মনে হতো, ঘরে এলেই চেয়ারে বসতে বলা যায়। “দাঁড়ান একটু মুছে দেই চেয়ারটা” বলার ভদ্রতা দেখাতে হয়না। এরকম কয়জন হয়? ক্যামেরার চোখ ভেদ করে হৃদয়ে ঢুকে যেতে ক’জনই বা পারে? বি.দ্রঃ আজ ইরফান খানের জন্মদিনে তাঁর প্রয়ান-দিবসে লেখা বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে স্মরণ করছি তাকে।

Leave a Reply