এটি কোন সিনেমার রিভিউ বলা যাবে না, বরং গানের রিভিউ বলা যায়

90 দশকের হিন্দি সিনেমায় একটা পরিবর্তনের ধারা দেখা যায়। সেটা হচ্ছে মিউজিকে। এর আগে সিনিমায় কাহিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল কিন্তু ৯০ এর দশকে সুরকার নাদিম-শ্রাবম জুটি সাথে কুমার শানু ও আলকা ইয়াগনি মিলে যে নতুন ধারার সৃষ্টি করেছিলে, সেটাই টানা চলেছে প্রায় এক দশক।

পরিচালক লরেন্স ডি’সুজা এই সিনেমায় কাস্ট করেন সঞ্জয় দত্ত, মাধুরী দীক্ষিত ও সালমান খান ও কাদের খান কে। সে সময়ের বিবেচনায় এরা ছিল নতুন প্রজন্ম। কারণ, তখ চলছিল অমিতাম, জিতেন্দ্র, জ্যাকিদের সময়।

ত্রিভুজ প্রেম কাহিনীর সিনেমা ছিল সাজন। কাহিনির হিসেবে এটা সাদামাটা একটা সিনেমা কিন্তু যে কারণে এই সিনেমা এখনো আলোচিত, সেটা হচ্ছে এর গান। নাদিম-শ্রাবন সুর ও সমীর এর লিখা আটটা গান ছিল এক একটা আগুনের গোলা। মেলডি ধারায় প্রতিটি গানই ছিল সুপার ডুপার হিট। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত কতজনের কত রাত কেটে গেছে গানগুলো শুনতে শুনতে…..

সেই মিউজিক্যাল ধারায় ১৯৯১ সালের ৩০ আগস্ট মুক্তি পায় ‘সাজন’

১.”পেহলি বার মিলে হ্যা”এসপি বালাসুব্রমনিয়াম, অলকা ইয়াগনিক,
২ “তুম সে মিনলে কি তামান্না হে”এসপি বালাসুব্রমনিয়াম
৩.”মেরা দিল ভি কিতনা “কুমার শানু, অলকা ইয়াগনিক
৪.”বহুত পেয়ার কারতে হে (মহিলা)”অনুরাধা পাড়োয়াল….

কেউ প্রেমে পড়েছে কিংবা ব্রেক আপ হয়েছে, সে সময় সাজন সিনেমার গানগুলো ফিতা ক্যাসেটে বেজে উঠত। সালমান খানের লিপসিং আর সদ্য প্রায়াত এসপি বালাসুব্রমনিয়াম এর কন্ঠ সে সময় ঝড় তুলেছিল। তারপর তারা প্রায় তাদের প্রতিটি সিনেমায় একসাথে কাজ করেছেন।

আমি যখন প্রথম এই সিনেমা দেখি, আমার বয়স ছিল ৬ বছর। যত টুকু মনে পড়ে তখন এই টাইপের সিনেমা খুব বিরক্ত লাগত। কোন মারামারি নাই, কিছু নাই….. কিন্তু বাড়ির বড়রা খুব মনযোগ দিয়ে VCR এ এই সিনেমা দেখত। তবে এই সিনেমার গানগুলো বড়দের সাথে সাথে আমিও গুনগুন করতাম।

২০২১ সালে এসেও অন্তত সপ্তাহে একবার গানগুলো শোনা হয় আমার। সাজন সুপার হিট করে এবং ১৯৯১ সালে বলিউডে সর্বোচ্চ আয় করে। এই ছবিটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় বিশেষত সঞ্জয় দত্তের ব্যাতিক্রম অভিনয় ও সালমান খান- মাধুরির অন স্কিন রোমান্স এবং গানের জন্য।

সম্প্রতি এত দিন পরে এই ছবির রিমেক তৈরির পরিকল্পনা করছেন পরিচালক

শুভ জন্মদিন কান্নাড় ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে এবং একমাত্র প্রিয় অভিনেতা রকিং স্টার ইয়াশ 🎂❤
বেশিরভাগ লোকই হয়তো কেজিএফ দেখার পরে ওর ফ্যান হয়েছে,অবশ্য এই মুভির আগে ওর তেমন পরিচিতিও ছিলো না কিন্তু আমি কেজিএফ রিলিজ হবার আগে থেকেই ওর ফ্যান ছিলাম।

২০১৫ সালে সর্বপ্রথম ‘গুগলি’ দেখি,এটা থেকেই তাকে ভালোলাগা শুরু হয়,কিছু দিন পরে ‘মিস্টার এ্যান্ড মিসেস রামাচারি’ দেখি আর এটা দেখার পরে পুরোপুরিভাবে ইয়াশের ফ্যান হয়ে যাই।কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করে ইয়াশের সবচেয়ে প্রিয় তিনটা মুভি কি?

তাহলে আমি উত্তরে বলবো প্রথম মিস্টার এ্যান্ড মিসেস রামাচারি,দ্বিতীয় গুগলি,তৃতীয়তে মাস্টারপিস।আর কেজিএফের স্থান থাকবে চতুর্থ নাম্বারে!যাইহোক,আগামী দিনগুলোর জন্যে অনেক অনেক শুভকামনা রইলো রকি ভাই।

২০১৯ এ মিশন এক্সট্রিম এর শুটিংয়ের সময় ফজলুর রহমান বাবু স্যার, আরিফিন শুভ, সাদিয়া নাবিলা। বহুল আলোচিত এই মুভিটি এই বছর ঈদুল-ফিতর এ মুক্তি পাবে। সবাই মিশন এক্সট্রিম নিয়ে খুব আশাবাদী। ভালো কিছুর অপেক্ষায় রইলাম। জয় হোক বাংলা চলচ্চিত্রের। শুভ কামনা ❤️

প্রসংগ ঃ রবার্ট এঞ্জিয়ার

(major spoiler alert for “the prestige”)
সারা দুনিয়ায় সিনেমাপ্রেমীরা ব্রুস ওয়েইন কে ভালবাসে আবার জোকার কেও ভালবাসে৷ টনি স্টার্ক চোখের মণি। থ্যানোসের কষ্ট টাও মানুষ বোঝে। এখনো হলিউড ভালবাসা বলতে জ্যাক আর রোজ।

গ্যাংস্টার বলতে কর্লিওনি পরিবার। সাইকোপ্যাথ হিসেবে হ্যানিবল লেক্টার। টম হ্যাংকসের আরো বেশি অসাধারণ সেভিং প্রাইভেট রায়ান/ কাস্ট এওয়ে থাকার পরও তিনি সবার কাছে ফরেস্ট গাম্প। সেইভাবে রবার্ট এঞ্জিয়ার কে কেউ মনে রাখে না।

আমার কাছে দ্যা প্রেস্টিজ হলিউডের সবচেয়ে আন্ডাররেটেড মুভিগুলোর মধ্যে প্রথমে থাকবে। ইন্টারস্টেলার ইনসেপশন এর চেয়ে কোন অংশে কম তো না বরং বেশি হওয়া সত্ত্বেও সেই লেভেলের ভালবাসা, হাইপ, মেজর কোন পুরস্কার বা ক্রিটিক দের ভালবাসা পাওয়া হয় নি এই মুভির৷

একইভাবে রবার্ট এঞ্জিয়ার সবচেয়ে আন্ডাররেটেড ক্যারেক্টার গুলোর মধ্যে আমার লিস্টে প্রথম। অবসেশন একটা মানুষ কে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যায় এর চেয়ে ভাল উদাহরণ আর মনে পড়ে না। শুধু মাত্র পারফেকশন এর আশায়, স্টেজ থেকে দর্শকের তালি গ্রহণ করার জন্য আর প্রতিদ্বন্দীকে হারানোর নেশায় একটা মানুষ প্রতি রাতে মৃত্যু যন্ত্রণা সহ্য করে গিয়েছেন।

সুপারহিরো মুভি বাদ দিলে সম্ভবত এটা হিউ জ্যাকম্যানের সেরা পারফরম্যান্স

স্ত্রীর মৃত্যুশোক কিংবা পরবর্তীতে লাস্যময়ী প্রেমিকা কিংবা অঢেল সম্পদ কিছুই তাকে ফেরাতে পারে নি। পানিতে ডুবে যাওয়ার দৃশ্যগুলো মনে পড়লে এখনো গা শিউরে ওঠে। স্ত্রীর মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে শত্রুতা শুরু হলেও আলফ্রেড এর ট্রিক কিন্তু ভিতরে ভিতরে এঞ্জিয়ার কে মুগ্ধ করত। সেই মুগ্ধতা থেকেই আলফ্রেড কে ছাড়িয়ে যাওয়ার নেশা তাকে পেয়ে বসে।

এই ক্যারেক্টার এর গভীরতা / বিচিত্র ধরণের আবেগীয় বৈশিষ্ট্য কয়টা হলিউড ক্যারেক্টর এর আছে? তারপরো এঞ্জিয়ার কে কেউ মাইকেল কর্লিওনি/ ব্রুস ওয়েইন এর মত করে কেউ মনে রাখে না বা ভাল বাসে না।

সুপারহিরো মুভি বাদ দিলে সম্ভবত এটা হিউ জ্যাকম্যানের সেরা পারফরম্যান্স। অথচ সেভাবে কোন স্বীকৃতি পান নি। এর চেয়ে বহু অগা মগা টাইপ পারফরম্যান্স দিয়ে মানুষ জন অস্কার ঘরে নিয়ে গিয়েছে। আই উইশ দ্য প্রেস্টিজ তরুণ নোলানের বদলে প্রতিষ্ঠিত নোলানের মুভি হইত। তাহলে এই মুভি / মুভির অভিনেতা দের ( বিশেষ করে হিউ জ্যাকম্যান আর সারাহ বোর্ডেন হিসেবে যিনি ছিলেন) প্রাপ্য স্বীকৃতির অন্তত কিছুটা হলেও পাওয়া হত।

Leave a Reply