একটি শিউলি ফুল ও একটি অপ্রকাশিত গল্প

শিউলি ফুলের অস্তিত্ব ক্ষনিক সময়ের। কিন্তু এই ক্ষনিক সময়েই শিউলি ফুল যে স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে যায় তার রেশ থেকে যায় দীর্ঘ সময়। ভালোবাসি কথাটা প্রকাশ না করেই কাউকে কতটুকু ভালোবাসা যায় ?

প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব না করে কারও জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা যায়? অসুস্থ বন্ধুর পাশে থেকে সুস্থতার জন্য অপেক্ষা করা এই সব কিছুরেই পরিপূর্ণ রুপ হলো এই ছবিটি। প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি কিছু ছিলো এই ছবিটিতে!

  • 𝗠𝗢𝗩𝗜𝗘 : 𝗢𝗖𝗧𝗢𝗕𝗘𝗥 (𝟮𝟬𝟭𝟴) 🌼
  • ɢᴇɴʀᴇ : ᴅʀᴀᴍᴀ /ʀᴏᴍᴀɴᴄᴇ
  • ɪᴍᴅʙ : 7.5
  • ʀᴏᴛᴛᴇɴ ᴛᴏᴍᴀᴛᴏᴇꜱ: 91 %

⚠️হালকা স্পয়লার⚠️

প্লটঃ গল্পটা হোটেল ম্যানেজমেন্টে পড়া কয়েকজনকে নিয়ে যারা একটি ফাইভ স্টার হোটেলে ইন্টার্নশিপে আছে। তাদের মধ্যে একজন হলো ড্যান আরেকজন হলো শিউলি। শিউলি অনেকটা শান্ত স্বভাবের হলেও ড্যান অনেকটা রগচটা এবং একগেয়ে স্বভাবের।একজন আরেকজনের একদম বিপরীত। একদিন হঠাৎ ঘটে যায় এক দুর্ঘটনা।

শিউলি হোটেলের ছাদের র‍্যালিংয়ে বসতে গিয়ে পিছলে একদম ৩০ ফুট নিচে পড়ে যায়। এত উঁচু জায়গা থেকে পড়ার কারণে ফ্র‍্যাকচারও অনেক বেশি পরিমাণে হয়, এর ফলে শিউলি একদম কোমায় চলে যায়। আর উপর থেকে পড়ার আগে শিউলির শেষ কথাটি ছিলো, “হোয়ার ইজ ড্যান? ” আর এইকথাটিই যেন একদম মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

ড্যানের বারবার মনে হতে থাকে শিউলি হঠাৎ কি কারণে ওর কথা মনে করলো। তাকে বার বার তাড়া করতে থাকে এই কথা। এই একটা প্রশ্নই যেন ড্যানকে বদলে দেয়।ঘুম, খাওয়া-দাওয়া, চাকরি বাদ দিয়ে হসপিটালটাকেই একদম নিজের ঘর বানিয়ে ফেলে। পুরোটা সময় একদম শিউলির পাশে থাকতে শুরু করে।এই অবস্থায় ড্যান কি পারবে শিউলিকে সুস্থ করে তুলতে? নাকি শিউলি ফুলের মতই হঠাৎ করে ঝরে যাবে?

ভালো দিকঃ অপ্রাপ্তি আর অপেক্ষার মাঝেও যে ভালোবাসা জড়িয়ে থাকে তা এই মুভির সবচেয়ে সুন্দর দিক। অসুস্থ রোগীর জন্য একজন মায়ের উৎকন্ঠা, সুস্থতার জন্য পরিবারের মানুষের ও বন্ধুর অপেক্ষা, তাদের মানসিক অবস্থা খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছবিটির নামকরনেও স্বার্থকতা রয়েছে। শিউলি ফুলগুলো শুধু অক্টোবর মাসেই ফুটে। এই অল্পসময়েই শিউলি ফুল চারদিকে স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে যায়। তেমনি শিউলির উপস্থিতিও ড্যানের জীবনকেও একদম পরিবর্তন করে দেয়।

একগেয়ে রগচটা ড্যান থেকে শান্তশিষ্ট ড্যানে পরিণত হয়। বরুন ধাওয়ান তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সাবলিল অভিনয়টাই এখানে করেছে। শেষ সিনগুলোর বিজিএম গুলো একদম মন ছুঁয়ে যাবে। আর কোনও কিছুই ছবিতে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হয় নি৷ একদম সবালিলভাবে পরিচালক প্রতিটি আবেগ-অনুভুতিকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাই ভিন্ন রকম এক গল্পের স্বাদ পেতে দেখে ফেলতে পারেন এই ছবিটি!
হ্যাপি ওয়াচিং 🖤

MASAAN শব্দের অর্থ হচ্ছে শ্মশান

বানারসি নামে ভারতের এক শহরে দেবী পাঠক আর দীপক চৌধুরী থাকতো। কিন্তু তাদের দুজনের গল্প আলাদা। । কিন্তু মুভির শুরুটাই যেন স্তব্ধ করে দেয়! দেবী বিয়ে না করেও বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কের জড়িয়ে পরে একজনের সাথে।তো পুলিশ খোজ পেয়ে সেখানে যায় এবং তাদের দু জনকে আপত্তিকর অবস্থায় পায়।

এবার পুলিশ তাদের পরিবারকে জানাতে চায়। হুট করে ছেলেটি ওয়াশ রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। পুলিশের ভয়ে কি করবে না করবে ভেবে ভেবে বাথরুমে থাকা একটি গ্লাস ভেঙে সেই কাচের টুকরো দিয়ে নিজের হাত কেটে ফেলে। এবং সে মারা যায়। শুরুটা এভাবেই হয়।

অন্যদিকে দীপক একটি মেয়েকে ভালোবাসে।যে মেয়ে তার থেকে উচু জাতের।কিন্তু ভালোবাসা তো জাত চিন্তা করে হয় না। ভালোবাসা হয়ে যায়। কে উঁচু জাতের কে নিচু জাতের এ ভেবে ভালোবাসা হয় না।

তবে ভালোবাসা কি পূর্ণতা পাবে! নাকি এদের দুজনের ভালোবাসার পেছনে কত নির্মম ঘটনা রয়েছে যা আমরা জানি না। জানবো কিভাবে!জানতে হলে তো মুভিটা দেখতে হবে। তো আমি আর কিছু লিখবো না। বাকীটা আপনারা মুভিতেই দেখে নিবেন।

তবে একটা কথা না বলে পারছি না। মুভিটি দেখে হয়তো কান্না করি নাই। কিন্তু ভেতরে একটা চাপা কষ্ট ভেতরটা পাহাড়ের মত ভারী করে রেখেছে। মাসান মুভিটা আমাদের শেখায় কিভাবে জীবনের জটিল পরিস্থিতি তেও নিজেকে শক্ত রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। তো যারা মুভিটি দেখেন নাই তার দেখে নিতে পারেন। আশা করছি ভালো লাগবে। ধন্যবাদ সবাইকে

Leave a Reply