এই মুভি ফ্লপ কেন করল বুঝলাম না

আমাদের জীবনে মাঝেমাঝে এমন কিছু সময় আসে যখন মনে হয় যে প্রিয় মানুষটা ছাড়া আমাদের জীবন চলবে না,কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের কে অগ্রসর হতে বাধ্য করে। কথায় আছে নাহ কোনো কিছু কারো জন্য থেমে থাকে না।এই জিনিসটাই Masaan এ দেখানো হয়েছে।

এইখানে ২টা Love Story রয়েছে একটা হচ্ছে Richa chaddar।আর আরেকটা হচ্ছে Vickey ausal এর।এদের relationship এ অনেক বড় ধাক্কা আসে, তো তাদের জীবনকি থেমে যায় নাকি নতুন মোড় নেয় এই নিয়ে বাকি গল্প।

এই সিনেমার কাস্টিং ছিল অসাধারন

প্রতোকটা অভিনেতা অনেক নেচারাল অভিনয় করেছেন।বিশেষ করে Sanjay Misrah আর Vicky Kaushal এর অভিনয় ছিল দেখবার মতো।ভিকির জায়গায় প্রথমে রাজকুমার রাও কে এই চরিত্রটি অফার করা হয় কিন্ত কোনো কারনে তিনি করেন নি।

এ ছাড়া Shweta Tripathi,Richa Chadda,Pankaj Tripathi সবাই অনেক ভালো অভিনয় করেছেন। Sonjoy Misrar অভিনয় দেখলে মনে হয় যে বাস্তব কিছু দেখছি, অভিনয় যে মনেই হয় নাহ এতো পারফেক্ট 🖤

এই ছবির Writing মুভিটার আরেকটি পজিটিভ দিক।কিছু কিছু ডায়লগ আছে যেগুলা অনেক ইমোশনাল। সিনেমাটোগ্রাফি অনেক জোস ছিল।ঘাটের সিনগুলো অনেক সুন্দর ভাবে দেখানো হয়েছে। এডিটিং অনেক টাইট ছিল। রানটাইম খুব কম। সবমিলিয়ে একটা অসাধারন মুভি।মুভিটা আপনাকে একটু হলেও ভাবাবে।যারা দেখেন নি দেখে নিন। আশা করি ভালো লাগবে।

মুভিটি কি এতই খারাপ ছিল?

এই মুভি ফ্লপ কেন করল বুঝলাম না। ইন্ডিয়ান অডিয়েন্স অাসলে কি চায় । হঠাৎ কাল ইউটিউবে krk এর এই মুভির রিভিউ চোখে পড়ল কৌতুহল বসত ভিডিও টা দেখতে গিয়ে মেজাজ টা গরম হয়ে গেল । এটি নাকি সস্তা ওয়ালে সিঅাইডির মুভি ভার্সন,সুশান্ত ছাড়া অন্যরা নাকি হিন্দি ঠিক মত বলতে পারে না ।
ভাবলাম দেখি তো মুভিটা কেমন খারাপ।

তাই জলদি দেখে ফেললাম। বলিউড এ সম্পূর্ন একটি ভিন্ন ফ্লেভার এর মুভি ছিল এটি। ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী আমার মতে সুশান্তের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ।

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এর অভিনয় নিয়ে তো কোন কিছু না বললেও হবে। কারণ তিনি কি রকমের জাত অভিনেতা সেটা তার যে কোন একটা মুভি দেখলেয় বুঝতে পারবেন।

⚠️(হালকা স্পয়লার)⚠️

১৯৪৩ সালের যুদ্ধবিধ্বস্ত কলকাতার প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবিটি এক দুর্ধর্ষ অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যোমকেশ বক্সীর প্রথম অভিযানকে কেন্দ্র করে। ব্যোমকেশের কাছে হঠাৎ একদিন তার সমবয়সী অজিত নামের একটা ছেলে আসে একটা কেস নিয়ে যে, তার বাবা হারিয়ে গেছে।

অজিতের বাবা একজন বিখ্যাত রসায়নবিদ। গত দুই মাস ধরে তার বাবা নিখোঁজ, আর তার নিখোঁজ হওয়া বাবার অনুসন্ধান করতেই অজিত ব্যোমকেশ এর কাছে অাসে ।

সে সময় কেউ না কেউ অাপনা অাপনি হারিয়ে যাচ্ছিল তাই পুলিশ পযন্ত কেস নিচ্ছে না। কারন তখন ২য় বিশ্বযুদ্ধ সময় কাল ছিল ।তাই বোমক্যেশ প্রথমে অতটা গুরুত্ব না দিলে তবে পরবর্তীতে ঠিকই এর রহস্য উদঘাটনে বেরিয়ে পরে।

খুনির ছোট ছোট ভুলগুল কে একত্রে করে সে সামনে এগুতে থাকে এরপর ব্যোমকেশ যতই এই কেসের গভীরে ঢুকতে থাকে, বিষয়গুলো ততই গভীর হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ব্যোমকেশ একটি হেরোইন চোরাচালানকারী চক্রের সন্ধান পায়।

সেই চক্রটি মুলত এমন একজন ব্যাক্তি চালায়, যে একাধিক ছদ্মবেশি নামে পরিচিত। পরবর্তী তে অার বেশ কিছু ঘটনা তাকে কনফিউশন এর মধ্য ফেলে দেয়।
সো ব্যোমকেশ বক্সী কিভাবে খুনের রহস্যভেদ করে তা জানতে অবশ্যয় পুরো মুভিটি দেখতে হবে।

যারা ক্রাইম থ্রিলার মুভি পছন্দ করেন তাদের জন্য মাস্ট ওয়াচ মুভিটি। বলতে পারেন বলিউডের অান্ডাররেটেড থ্রিলার মুভির মধ্য এটি অন্যতম। তবে মুভির যে জিনিস টা অামাকে সবচেয়ে বেশি অাকর্শন করছে তা হল মিউজিক।

তবে মভিতে ২য় বিশ্ব যুদ্ধ সময় টাকে যে একদম সঠিক ভাবে ফুটিয়ে তুলেছন পরিচালক তা অবশ্যয় প্রশংসার দাবিদার রাখেন। কি অার বলব মোট কথা অন্য রকম একটা প্যকেজ ছিল মুভিটি।

আমরা জানি, আমাদের এই ভারতবর্ষে সেক্স বিষয়টি নিয়ে মানুষ খুব একটা খোলামেলা আলোচনা করেনা। যার ফলে, উইমেন সেক্সিসম এর বেশিরভাগই অজানা থেকে যায়। বিভিন্ন বয়সে নারীদের দৈহিক এবং মানসিক চাহিদার আদলে একটি ডার্ক কমেডি জনরার মুভি এটি।

কাহিনীর মূল ৪ ভিন্ন বয়সের ৪ জন নারীদের নিয়ে। প্রথমে আসি, একজন উঠতি বয়সী রেহানা আবিদির কথায়। সে কলেজে পড়ে এবং ভালো গান গায়। মিলি সাইরাসকে নিজের আইডল মনে করে। কিন্তু এতে একটি বিপত্তি হলো তার পরিবার অত্যন্ত কনজারভেটিভ এবং এসব কখনো হতে দিবেনা। তাই সে লুকিয়ে লুকিয়ে বোরখার নিচে ওয়েস্টার্ন কাপড় পড়ে কলেজে যায় এবং সেই কাপড় সে যোগাড় করে চুরি করে। একদিন সে চুরি করে ধরা পড়ে এবং তার পরিবার তার

সকল কর্মকাণ্ডের কথা জানতে পারে

এরপর আসি, এক মধ্যবয়সী মহিলা যিনি কিনা সংসারের খরচপাতি সামলানোর জন্য তার স্বামীর অগোচরে সেলসউইম্যানের কাজ করে। তার নাম শিরিন আসলাম। সে এতোই পটু তার কাজে যে ক্রমে তার পদোন্নতি হতে থাকে।

কিন্তু তার স্বামী জানতে পারলে তাকে কাজ কখনই করতে দিবেনা কেননা তার স্বামীর মতে, নারীদের কাজ হলো সংসার পালন এবং বাচ্চা দেখাশোনা করা। তাই শিরিনের চাকরি তার স্বামীর পুরুষ অহংকারে বেশ নাড়া দেয়। পরে শিরিন জানতে পারে, তার স্বামী পরকীয়ার লিপ্ত।

আরেকজন নারী হলো লীলা যে কিনা তার নিজের ব্যবসা খুলতে চায় ওয়েডিং প্ল্যানার হিসেবে। কিন্তু এর আগেই লীলার বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। লীলার প্রেমিকের সাথে লীলার সম্পর্কের কথা সেই পাত্রকে জানানো হয়নি। লীলার মা তাই জলদি জলদি তাকে বিয়ে দিতে চাইতো কিন্তু তার প্রেমিক সেখানে বাঁধ সাজে।

সবশেষে আসি, হাওয়া মহলের মালিক বুয়াজির কথায়। বুয়াজির আসল নাম উষা কিন্তু সবাই উনাকে বুয়াজি বলে সম্বোধন করে। তিনি একজন বয়স্ক বিধবা মহিলা। সেইসাথে খুবই শক্ত মনোভাবের অধিকারী। কিন্তু তিনি এডাল্ট বই পড়তেন এবং সেই অনুযায়ী স্বপ্নের দুনিয়া বানাতেন।

তার সেই দুনিয়ায় আগমণ ঘটে জাসপাল নামের সুইমিং ট্রেনারের। বুয়াজি জাসপালের সাথে ফোনের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তুলে কিন্তু জাসপাল জানত না যে তার ফোনের মেয়েটি আসলে বয়স্ক বুয়াজি।

এভাবেই ৪ টা স্টোরিকে একত্র করে একটি মূল গল্প বানানো হয়েছে। ছবিতে সেক্সকে মেটাফোর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কমেডির মাধ্যমে আমাদের সমাজের কিছু নির্মম সত্য তুলে ধরা হয়েছে পুরো মুভি জুড়ে।

উইমেন সেক্সিসম নিয়ে মুভি বলিঊডে হাতে গোনা এবং এর মধ্যে এই মুভিটি আমার মতে সবচেয়ে বোল্ড । বলে রাখা ভালো, মুভিটি ভারতে ব্যান করা হয়েছিল। যা এখন বিলোপ করা হয়েছে।

মুভির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন রত্না পাঠক শাহ , কঙ্কনা সেনের মতো শক্তিশালী অভিনেত্রীরা। তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন অহনা কুমার এবং প্লাবিতা বড়ঠাকুরের মতো নবাগত অভিনেত্রীরা।

তবে এই মুভির মূল শক্তি এর কাহিনী এবং ডিরেকশন

শেষ পর্যন্ত দর্শক ধরে রাখার মতো মুভি এটি। মুভির গানগুলো মুভির ডার্ক হিউমারে একদম জান ঢেলে দিয়েছে। তাছাড়া রানটাইম একদম পারফেক্ট ছিল। যার কারণে বোরিং লাগেনি কোথাও।

মুভিতে বিভিন্ন দিক থেকে নারীদের অবস্থান দেখানো হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের যাওয়া, ঘর থেকে বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা , ঘর সামলানো এবং , সবশেষে দৈহিক এবং মানসিক চাহিদা এসব কিছু বেশ সুন্দর ভাবে দেখানো হয়েছে।

যারা ডার্ক কমেডির ফ্যান তাদের জন্য মুভিটি মাস্ট ওয়াচ। যারা একটু মাথা খাটিয়ে উপলব্ধি করতে ইচ্ছুক তারা এই মুভিটি দেখতে পারেন। এই মুভি সবার জন্য না।

Leave a Reply