থিম সং “ইফ আই হ্যাড আ হার্ট” শুনে আপনি অন্যরকম ভাইব অনুভব করবেন

তুরস্ক বংশদ্ভূত দুইটি জাতির কথা আমরা কমবেশি সবাই জানি। ইয়াজুজ-মাজুজ নামক এই জাতিদ্বয়ের কাজ ছিল নিজেদের এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে হানাহানি, রাহাজানি, লুটতরাজ, ক্ষমতা বিস্তারসহ আরো অনেক নিকৃষ্ট কাজকর্ম।

চর্ম চোক্ষে এদের ধ্বংসযজ্ঞ আমরা না দেখলেও ঠিক এরই মতো এক যুদ্ধবাজ জাতি সম্পর্কে আমরা ধারণা পাই ইতিহাসভিত্তিক জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ভাইকিংস থেকে। জনরা থেকে ধারণা করা যায় এই সিরিজটি মোটামুটি মিথ.

  • TV Series: VIKINGS
  • IMDB 8.5
  • Rotten Tomatoes 93%
  • Genres: War, Historical drama, Historical fiction, Adventure.

লিজেন্ডারি টেইলস থেকে রচনা করা হয়েছে

মেইনল্যান্ড ক্যাটেগাট আদৌ কোথাও এক্সিস্ট করে কি না জানা নেই। তবে বেশ কয়েকটি নরম্যান্ড কান্ট্রির নাম পাওয়া যায় যেমন- ইংল্যান্ড, নরওয়ে ইত্যাদি এবং এর বেশিরভাগ শুটিং হয়েছে আয়ারল্যান্ডে।

বলা আছে ৭৯৫ খৃষ্টাব্দের দিকে ভাইকিংরা আয়ারল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে তাদের আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। সিরিজের ক্যারেক্টারগুলোকে নর্সম্যান বলা হয়ে থাকে, অর্থাৎ এরা স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলো থেকে আগত এবং সেটেলার। তাই এদেরকে আবার বাস্তবতা থেকেও দূরে ঠেলে দেয়া যাচ্ছেনা।

প্রথমেই আসি এদের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিশ্লেষণে। মূলত পাগান ধর্মের অনুসারী ভাইকিংসরা। অমুসলিম, অখৃষ্টান একটি ধর্ম এবং এরা দাবী করে এই পাগান থেকেই খৃষ্ট ধর্ম বিবর্তন লাভ করে। আর এই দাবীর পক্ষে দলিল পাওয়া যায় কিং একবার্টকে দিয়ে, যিনি আগে ছিলেন একজন ভাইকিং, পরবর্তীতে খৃষ্ট ধর্মের অনুসারী।

মূলত দশটি নর্স গডের পরিচয় পাওয়া যায় যাদের মধ্যে থর, লোকি, অডিন, এইসির উল্লেখযোগ্য। ভাইকিংরা এদের উদ্দেশ্যে মানুষ এবং ছাগল বলি দেয় আর বিশ্বাস করে যে মৃত্যুর পর তাদের পূর্বপুরুষদের সাথে ভালহালাতে ড্রিংক করবে। চিয়ার্স। স্যরি, স্কল।

টুকটাক শিকার এবং কৃষি নির্ভর অর্থনীতি হলেও পুরুষরা ছোট থেকেই যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী এবং এবং মহিলাদেরকেও এই কাজে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় যাদের বলা হয় শিল্ড মেইডেন। এবং মহিলাদের অংশগ্রহণের এই বিপ্লবে যিনি পাইওনিয়ার হয়ে থাকবেন তিনি সিরিজের অন্যতম নারী চরিত্র ল্যাগার্থা।

সিরিজের শুরুটা বিভিন্ন স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলে রেইড দিয়ে তাদের ব্যাপক স্বর্ণ, রুপা অপহরণের মধ্য দিয়ে হলেও ইংল্যান্ড অভিযানে গিয়ে অন্য চিন্তা মাথায় আসে সিরিজের প্রধান চরিত্র দ্য গ্রেট র‍্যাগনার লথব্রকের মাথায়।

নিজেদের মধ্যে খুচরা ঝগড়া বিবাদ এবং কথা কাটাকাটির পর শত্রুতার সম্পর্ক এক সময় বন্ধুত্বে রুপ নেয় রাজা একবার্ট এবং র‍্যাগনারের মধ্যে। এবং কিং র‍্যাগনার এই ফ্রেন্ডশিপের লিগ্যাসি কিভাবে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেন তা জানতে হলে আপনাকে দেখতে হবে সিরিজের শেষ পর্যন্ত।

সিরিজের পৃথক পৃথক চরিত্র ব্যবচ্ছেদ করে পোস্ট লম্বা করার উদ্দেশ্য নেই তবে কয়েকজনের নাম নিতেই হয়। র‍্যাগনার লথব্রক- যাকে ঘিরেই পুরো সিরিজের স্টোরি বিল্ড আপ হয়।

ফ্লোকি- আমার কাছে মনে হয় র‍্যাগনার এর অন্যতম ওয়াফাদার (লয়্যাল) বন্ধু। তার অর্ধেক মৃত্যু হয় নিজের স্ত্রীর মৃত্যুতে; বাকি অর্ধেকের মৃত্যু কেন ও কখন হয় জানতে চাইলে পুরো সিরিজ দেখুন।

ল্যাগার্থা- যাকে ছাড়া র‍্যাগনার ইনকমপ্লিট

রলো- র‍্যাগনারের ভাই। শুরুটা হয় দুজন দুজনের জন্য জীবন দিয়ে দিতে চাওয়ার মাধ্যমে, আর শেষটা হয় একজন আরেকজনের জীবন নিয়ে নিতে চাওয়ার মাধ্যমে। ভ্রাতৃত্ব কিভাবে ব্যার্থতায় পর্যবাসিত হয় জানতে হলে পুরো সিরিজ দেখতে হবে৷

আইভার দ্য বোনলেস- লেংড়া হাঁটতে না জানা এই প্রাণীটা কিভাবে ক্যাটেগাটের মালিক হয়ে যায় এবং নিজেকে গড দাবী করে সেটা আমি বললে বিশ্বাস করবেন না তাই নিজেই দেখুন।

এই সিরিজ নিয়ে আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত হলো, ভাইকিংস সিরিজটি গেম অফ থ্রোন্সের মতোই হাইপ ডিজার্ভ করে। এর চেয়ে এক চুলও কম না। গটের মতো বাজেট না থাকায় হয়তো সিরিজের প্রয়োজনে ভ্যালেরিয়ান এর মতো সম্পূর্ণ নতুন একটি ভাষার জন্ম দিয়ে দিতে পারেনি কিন্তু এই সিরিজের গল্প, চিত্রনাট্য, প্রতিটি চরিত্রকে আলাদাভাবে ফুটিয়ে তোলা, দর্শক ইনভলভমেন্ট গটের চেয়ে কোন অংশে কম নয়।

যদিও অন্যান্য আট দশটি সিরিজের মতো শেষের দিকে অগ্রসর হতে হতে ক্রমেই রঙ হারাতে থাকে। কিন্তু একবার দেখা শুরু করলে আপনি র‍্যাগনার লথব্রকের প্রেমে পড়তে বাধ্য। থিম সং “ইফ আই হ্যাড আ হার্ট” শুনে আপনি অন্যরকম ভাইব অনুভব করবেন। গট ফ্যানদের জন্য একটি মাস্ট ওয়াচ সিরিজ হল ভাইকিংস।

I highly recommend this. Happy watching.

গ্রুপে আমার প্রথম পোস্ট। কোন মুভি/ সিরিজ নিয়েও প্রথম রিভিও। ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি।

Leave a Reply