অস্কার দিয়ে ঝুলি ভরে ফেলা মাস্টারপিস মুভি “প্যারাসাইট”

আমরা একেকটা মানুষ একেকটা মানুষ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। একটা পরিবারের কথাই ধরুন, কেউ থাকে খুব চুপচাপ, কেউ আবার চঞ্চল, কেউ বোকা কেউ আবার ভীষণ মেজাজি।

এই যে সবার ভিন্ন ভিন্ন রকম,এত ভিন্নতা থাকলেও একটা জায়গায় এসে সবার সাথে যেটা মিলে যায় সেটা হলো সম্পর্ক ধরে রাখার, টিকিয়ে রাখার, সুন্দর করার চেষ্টা। কুম্বালাঙ্গি দ্বীপে গড়ে উঠা দুই পরিবারের জীবনব্যবস্থা এবং সেরকমই কিছু সম্পর্ক নিয়ে ‘কুম্বালাঙ্গি নাইটস’ মুভিটি।

সাজি, বনি, ববি ও ফ্রাঙ্কি চার ভাইয়ের বিচ্ছিন্ন জীবনের সুন্দর কিছু মুহূর্ত দেখানো হয়েছে মুভিতে। তাছাড়া দেখানো হয়েছে নতুন করে গড়ে উঠা কিছু সম্পর্ক যে সম্পর্কগুলো ভালোবাসার উর্ধ্বেও স্থান পায় কখনো কখনো।

ফাহাদ ফাসিলের অভিনয় ছিল অসাধারণ

অন্যদিকে কুম্বালাঙ্গি দ্বীপে গড়ে উঠা অন্য আরেকটি পরিবারে জামাই ‘সামি’, এবং দুই মেয়ে নিয়ে বৃদ্ধা মায়ের বাস। যেখানে সামির অদ্ভুত স্বভাব এবং তার পছন্দ অপছন্দ নিয়ে সবসময় ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে থাকতে হয় সবাইকে।

  • মুভিঃ কুম্বালাঙ্গি নাইটস
  • পরিচালকঃ মধু সি নারায়ণন
  • ভাষাঃ মালায়লাম
  • আইএমডিবি রেটিংঃ ৮.৭/১০

সামির চরিত্রে ফাহাদ ফাসিলের অভিনয় ছিল অসাধারণ। মুভির বিভিন্ন জায়গায় ফাহাদ ফাসিলের ঠোঁট প্রসারিত করা হাসি একদিকে যেমন অস্বস্তিতে ফেলে তেমনি আবার আনন্দও দেয়।

এভাবেই প্রেম, পরিবার, সম্পর্ক নিয়ে এগোতে থাকে কুম্বালাঙ্গির রাতগুলো। যারা মুভিটি এখনো দেখেননি, সময় পেলে মুভিটি দেখতে পারেন। আশাহত হবেন না আশা করি। বিঃদ্রঃ আমি রিভিউ ভালো লিখতে পারি না। কিন্তু এমন একটা মুভি যারা দেখেননি তারা যাতে বঞ্চিত না হোন তাই এটুক জানালাম মাত্র।

চিরায়ত লোককাহিনীর ব্লকবাস্টার ‘রূপবান’

  • পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি – রূপবান
  • পরিচালক – সালাউদ্দিন
  • শ্রেষ্ঠাংশে – সুজাতা, আলী মনসুর, চন্দনা, সিরাজুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মণ্ঞ্জুর হোসেন, ইনাম আহমেদ, রহিমা খাতুন প্রমুখ।
  • উল্লেখযোগ্য গান – ঢেউ উঠছে সাগরে রে, সাগর কূলের নাইয়া, দাইমা গো, মন না জেনে প্রেমে মইজো না।মুক্তি – ৫ নভেম্বর ১৯৬৫
  • ‘রূপবান’ এই দেশ থেকে উর্দু সিনেমাকে তাড়িয়েছিলো

এক বছর টানা বিভিন্ন সিনেমাহলে ‘রূপবান’ ছবি চলেছিল। হয়েছিলো ব্লকবাস্টার। পাকিস্তান আমলে বাংলা ছবির ব্লকবাস্টার সাফল্যে তখন নতুন করে বাংলা ছবি নির্মাণের জোয়ার এসেছিলো। ‘রূপবান’ লোককাহিনী নির্ভর ছবি হওয়াতে এ ধরণের ছবি নির্মিত হতে থাকে পরের বছরগুলোতে।

‘রূপবান’ মুক্তি পেয়েছিলো ১৯৬৫ সালে। নির্মাতা সালাউদ্দিন হলেও চলচ্চিত্রকর্মী সিরাজুল ইসলাম ভুঁইয়া ও সফদার আলী ভুঁইয়া ছিলেন ছবির অন্যতম প্রাণ। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় ছবিটি নির্মিত হয়েছিল।

মূল চরিত্রে তন্দ্রা মজুমদার নামের একটি মেয়েকে ঠিক করা হয়েছিল যাকে চলচ্চিত্রে নাম দেয়া হয়েছিলো সুজাতা। সুজাতার ওয়ার্ড অব মাউথ ছবি এটি। আজও তাঁকে দর্শক ‘রূপবান কন্যা’ নামে চেনে এবং তিনি গর্বিত বোধ করেন।

‘রূপবান’-এর পর সফদার আলী ভুঁইয়া পরের বছর মানে ১৯৬৬ সালেই ‘আবার বনবাসে রূপবান’ নামে আরেকটি ছবি নির্মাণ করেন। ১৯৮৫ সালে নির্মিত হয় ‘রঙিন রূপবান’ ছবি যার প্রধান চরিত্রে ছিল রোজিনা।

গ্রামগণ্ঞ্জের পালা বা লোককাহিনীতে নির্মিত ‘রূপবান’ ছবি। যাত্রাপালার মধ্যে যে পালাগুলো সবচেয়ে জনপ্রিয় তার মধ্যে ‘রহিম বাদশা রূপবান পালা’ সেরা। পালার গল্প অনুযায়ী ছবি নির্মিত হয়েছে। মূল গল্পটি মোটামুটি অনেকেরই জানা।

একাব্বর বাদশা আঁটকুড়ে যার সন্তান হয় না। এক সময়ের খ্যাতি ম্লান হতে থাকে এজন্য। বাদশা প্রচণ্ড মনোকষ্ট নিয়ে উজিরকে রাজ্যের ভার দিয়ে বনে চলে যায় সাধনার জন্য যাতে সৃষ্টিকর্তা তার উপর সহায় হয়। বনে বারো বছর ধরে সাধনারত দরবেশের ধ্যান ভাঙানোর জন্য দরবেশ বাদশাকে অভিশাপ দেয়।

বাদশা ক্ষমা প্রার্থনা করে। দরবেশ তাকে বলে দেয় পুত্র সন্তান জন্ম নেবে বাদশার কিন্তু তার জন্য বাদশাকে কঠিন মূল্য দিতে হবে। বারো দিন বাঁচবে সে তবে যদি বারো বছরের মেয়ের সাথে তাকে বিয়ে দিয়ে বনবাসে পাঠানো হয় তাহলে সে বাঁচবে।

অভিনেত্রী সুজাতা এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলেছেন

বেগম রাজি না হলেও বাদশা অকপটে রাজি হয় কারণ তাঁর আঁটকুড়ে অভিশাপ কাটাতে হবে। উজিরের বারো বছরের মেয়ে রূপবানের সাথে বিয়ের প্রস্তাব আসলে উজির রাজি হয় না মেয়ের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য। উজিরকে বন্দি করে মেরে ফেলার কথা বললে রূপবান নিজে থেকে রাজি হয় বিয়ে করতে। বিয়ের পর বনবাসে গিয়ে শুরু হয় রহিম-রূপবান দম্পতির জীবন সংগ্রাম। তারপর বিভিন্ন ঘটনা।

মূলত বনবাসে রূপবানের যে কঠিন সংগ্রাম এর মধ্যে একটা অ্যাডভেঞ্চার আছে। দর্শক প্রথমবার দেখতে বসলে হয়তো বিষয়টি বুঝতে পারবে না। কিন্তু সূক্ষ্মভাবে খেয়াল করলে বুঝতে পারবে। বনের মধ্যে প্রতিকূল পরিবেশ থাকে এর মধ্যে বারো দিনের রহিমকে নিয়ে সংসার সাজানো, টিকে থাকা এগুলোর মধ্যে অ্যাডভেঞ্চারাস ব্যাপার আছে।

বনবাসে ছবির গল্পে দুটি বাঁক আসে। প্রথমত জংলি রাজা আনোয়ার হোসেনের সাথে বাবামেয়ের চিরায়ত সম্পর্কে জড়িয়ে যায় সুজাতা বা রূপবান। রহিমকে বাঘের হাত থেকে রক্ষা করার মতো ঝুঁকিও নিতে হয় আনোয়ার হোসেনকে। রহিম বড় হলে পাঠশালায় ভর্তির পর আরেক রাজকন্যা তাজেলের সাথে তার রসায়নে ত্রিভুজ প্রেম গড়ে ওঠে রূপবান-রহিম-তাজেল মিলিয়ে। এটা ছিল ছবির ড্রামাটিক জমজমাট পার্ট।

নিঃসন্দেহে ছবির সেরা চরিত্র রূপবান বা সুজাতা। নিজের ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স বলতেই হয়। এত কম বয়সে নিখুঁত অভিনয় প্রশংসনীয়। ছবিতে তার চরিত্রটি প্রথমত স্যাক্রিফাইসের কারণ বারো দিন বয়সের শিশুকে বিয়ে করে বনবাসে সংসার পাততে হয় তাকে। তবে শেষ পর্যন্ত স্যাক্রিফাইসের কিনা অদেখা দর্শকের জন্য এটুকু উহ্য রাখাই ভালো।

স্বামী রহিম বাদশা বড় হবার পর দিদির পরিচয়ে তাকে থাকতে হয় কিন্তু শেষটা কি হবে! সুজাতার গ্রামীণ বধূর লুক অসাধারণ। কোনো আড়ম্বর নেই। চরিত্রটি বেদনার হওয়াতে স্যাড ভার্সনেই তাকে অভিনয় করতে হয়েছে বেশি এবং অনবদ্য অভিনয় ছিল। তার চোখ কথা বলে। রহিম বাদশার চরিত্রে আলী মনসুর স্বাভাবিক অভিনয় করে গেছে। তাজেল চরিত্রের চন্দনা ভালো ছিল।

একাব্বর বাদশার চরিত্রে সিরাজুল ইসলাম নিজের অভিনয়ক্ষমতা দেখিয়েছেন। আনোয়ার হোসেন জংলি রাজার চরিত্রে ব্যতিক্রমী চরিত্র। ছবির গানের মধ্যে ‘ঢেউ উঠছে সাগরে রে’ সেরা। ফোক গানের সেরা শিল্পী আবদুল আলীমের দরদী কণ্ঠে গানটি মন ছুঁয়ে যায়। গানের বাণীসমৃদ্ধ লিরিক আকর্ষণীয়। ‘সাগর কুলের নাইয়া’ জনপ্রিয় গান ‘রূপবান’-এর।

‘মন না জেনে প্রেমে মইজো না’ তাজেলের প্রতি রূপবানের আহবানে অসাধারণ গান

গানের ক্ষেত্রে ফোক গানে তখনকার ছবিতে একই সুরে সব গান হত ছবিতে এবং গানের পরিমাণ থাকত বেশি। ‘রূপবান’-এও তাই তবে গানগুলো হৃদয়কে স্পর্শ করে। এ ছবির সংলাপ, গান, অভিনয়শিল্পীদের সম্বোধনে সাহিত্যগুণ আছে।

বইয়ের ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে বেশি। সাধুভাষার প্রভাব আছে। রহিম বাদশা যখন তাজেলকে বলে-‘তাজেল, তুমি আমার বান্ধব হবে না?’ এ সংলাপে ‘বান্ধব’ শব্দটি জীবনসঙ্গিনী বোঝায়। জীবনসঙ্গিনীকে এত সুন্দর শব্দে প্রকাশ করার মধ্যে সাহিত্যগুণ উঠে আসে।

‘রূপবান’ দেখার আগে নতুন বা এই সময়ের দর্শকদের জন্য দর্শক প্রস্তুতির দরকার আছে যারা প্রথমবার দেখছে তাদের জন্য বেশি দরকার। তাদের হয়তো বিরক্তি আসতে পারে, তারা হয়তো প্রযুক্তিগত ব্যাপারস্যাপার নিয়ে কথা তুলতে পারে কিন্তু ষাটের দশকের এ ছবিকে তখনকার সময়, দর্শক সেন্টিমেন্ট থেকে বিচার-বিবেচনা করলে এ ছবি ভালো লাগবে।

তাছাড়া আমাদের লোকসংস্কৃতির অংশ হিসেবে সম্মানজনক চোখে দেখলে ভালো লাগতে বাধ্য। অভিনেত্রী সুজাতা সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ‘রূপবান’ ছবিতে তাজেলকে উদ্দেশ্য করে বিরহের গান গাওয়ার সময় একটা বাঁশ ধরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ঐ বাঁশটি পরে নিলামে উঠেছিল।

পাকিস্তান আমলের এক আনা দামের বাঁশ পরে এক ব্যক্তি সাড়ে পাঁচশো দিয়ে কিনেছিলেন এবং সে ব্যক্তিটি সুজাতার সাথে দেখা করে গর্ব করে এটা বলেছিলেন। সুজাতা তাঁর কাজের স্বীকৃতি মনে করেন দর্শকের এ ভালোবাসাকে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘রহিম বাদশা রূপবান পালা’-কে যে ফোকলোর স্টাডিজে পড়ানো হয় তখন বোঝা যায় ‘রূপবান’ এদেশের চলচ্চিত্রে কী ছিল! বাকিটা ইতিহাস।

  • Movie: Memories of Murder (2003)
  • Country: South Korea
  • Genre: Crime | Thriller
  • Director: Bong Joon-ho
  • IMDb: 8.1 /10
  • P.R.: 9.0/10

কোরিয়ার এক রেডিও স্টেশনে কিছুদিন পরপরই এক পুরাতন গান প্লে করার রিকুয়েস্ট আসে । মজার বিষয় হলো , যেদিন সেখানে বৃষ্টি হয় সেদিনই রিকুয়েষ্ট টা আসে । তবে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে , যে দিন গানের রিকুয়েস্ট আসে , সেই দিনই কোন না কোন তরুনী নৃশংসভাবে খুন হয় । কি অদ্ভুত তাইনা ? এইরকমই এক রহস্যময় ক্রাইম থ্রিলার মুভি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন অস্কারজয়ী ডিরেক্টর বং জুন হো ।

অস্কারজয়ী ডিরেক্টর বং জুন হো

অস্কার দিয়ে ঝুলি ভরে ফেলা মাস্টারপিস মুভি প্যারাসাইট তারই সৃষ্টি । আরো ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে এই মুভিটি ১৯৮৬ সালে কোরিয়াতে ঘটা সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি । সাইকো থ্রিলার মুভি যাদের পছন্দ , তাদের জন্য তো মাস্ট ওয়াচ।

হঠাৎ করেই এক তরুণীর লাশ পাওয়া যায় ড্রেনে , যাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে । স্থানীয় গোয়েন্দারা তদন্ত শুরু করে । এর পরপরই খোঁজ আসে আরেক লাশের । ঘাবড়ে যায় লোকাল পুলিশ ও গোয়েন্দারা । সিউল থেকে নিয়ে আসা হয় আরেক সিনিয়র গোয়েন্দাকে । সে তদন্ত করে বের করে , লাল পোশাক পড়া তরুণীদেরকেই হত্যা করা হয়েছে , সে এও জানায় ইতিমধ্যে তৃতীয় খুনও সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে ।

সবাই বুঝতে পারে এ কোন সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয় । নিশ্চয়ই কোন সাইকো কিলারের কাজ । শুরু হয় অভিযান । তারপর ? খুনি কি ধরা পড়ে ? নাকি ঘটে অন্য কিছু ? টান টান উত্তেজনার মুভিটি দেখতেই হবে সব রহস্য জানতে । শেষটা আপনাকে অবাক করে দিবে নিঃসন্দেহে ।

২ ঘন্টা ১১ মিনিটের মুভিতে ইকটুও বোর হওয়ার চান্স নেই । প্রচুর থ্রিল পাবেন । বং জুন হো এর ডিরেকশন যে কতটা ভার্সেটাইল তা এই মুভি দেখলেই বুঝবেন । মুভির সিনেমাটোগ্রাফির প্রশংসা করতেই হয় । সব মিলিয়ে জোস একটা মুভি।

Leave a Reply